রান্নাঘরের ৪ ভুলে খাবারে মিশছে ক্ষতিকর প্লাস্টিককণা
স্বাস্থ্য ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী প্লাস্টিক (রান্নার পাত্র, পানির বোতল, কফির কাপ, মোড়ক) এখন আমাদের শরীরের ভেতরেও প্রবেশ করছে। গবেষকদের অনুমান, একজন মানুষ বছরে প্রায় ৩৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা অজান্তে গ্রহণ করছে। যদিও এ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবে প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, এই কণাগুলো কোষের ক্ষতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করা এবং নির্দিষ্ট ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নাঘরের কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস এবং জিনিসপত্রই আমাদের খাবারে এই অদৃশ্য কণা প্রবেশের প্রধান উৎস।
রান্নাঘরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ৪ প্রধান পথ
১. প্লাস্টিক ফুড স্টোরেজ কন্টেইনার:
* মাইক্রোওয়েভে গরম করা: প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের সর্বোচ্চ নিঃসরণ ঘটে। ন্যানোপ্লাস্টিক ১ মাইক্রনের চেয়েও ছোট হওয়ায় তা আরও বেশি ক্ষতিকর।
* ফ্রিজে সংরক্ষণ: এমনকি ফ্রিজে রাখা বা সাধারণ তাপমাত্রায় রাখলেও ছয় মাসে কোটি কোটি কণা নিঃসৃত হতে পারে।
* নিরাপদ বিকল্প: BPA-মুক্ত পাত্রও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। মাইক্রোওয়েভ, ফ্রিজ বা ওভেনে কাচের পাত্র বা সিলিকন ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
২. রান্নাঘরের বাসনপত্র:
* প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড: কাটাকুটির সময় প্রতিটি স্লাইসে আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বের হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাংস ভালোভাবে ধোয়ার পরেও এই কণা পুরোপুরি দূর হয় না।
* নন-স্টিক পাত্র: আঁচড় বা দাগ পড়া নন-স্টিক রান্নার পাত্র থেকে প্রতিবার ব্যবহারে হাজার থেকে লাখ লাখ প্লাস্টিকের কণা নির্গত হয়।
* ব্লেন্ডার: প্লাস্টিকের ব্লেন্ডারে তীব্র ঘর্ষণের ফলেও অসংখ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়।
* নিরাপদ বিকল্প: প্লাস্টিকের পাত্রের বদলে খাবার সংরক্ষণ ও রান্নার জন্য কাচ, স্টেইনলেস স্টিল, কাঠ বা ধাতু ব্যবহার করুন।
৩. পানীয় জল:
* প্লাস্টিকের বোতল: গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিকের বোতলে প্রতিবার খোলা–বন্ধের ঘটনায় প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ৫৫৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়।
* ট্যাপের পানি: যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় ১৭৭টি ট্যাপের পানির নমুনার প্রতিটিতেই প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
* সমাধান: প্লাস্টিক গ্রহণের মাত্রা কমাতে ভালো মানের ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. টি-ব্যাগ:
* গরম চা: গরম চায়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা যোগ করার অন্যতম প্রধান উৎস হলো টি-ব্যাগ। একটি টি-ব্যাগ থেকে ১০০ কোটিরও বেশি কণা নিঃসৃত হতে পারে। এমনকি 'কম্পোস্টেবল' লেবেল দেওয়া ব্যাগেও অনেক সময় প্লাস্টিক থাকে।
* নিরাপদ বিকল্প: গরম পানীয়ের জন্য খোলা চা পাতা এবং স্টেইনলেস স্টিলের টি-ইনফিউজার ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, আতঙ্কিত না হয়ে বরং ধীরে ধীরে রান্নাঘর থেকে প্লাস্টিকের জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলার অভ্যাস করা বুদ্ধিমানের কাজ। যে প্লাস্টিক সামগ্রীগুলো ঘন ঘন গরম করা হয়, ফ্রিজে রাখা হয় বা ডিশওয়াশারে ধোয়া হয়, সেগুলোর পরিবর্তে সিলিকন, কাঠ, ধাতু বা কাচের জিনিস ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা: ফেব্রুয়ারি থেকেই ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা বেতন বাড়ছে সরকারি কর্মচারীদের
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে একধাপ এগোল সরকার
- পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- আজকের সোনার বাজারদর: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- টানা ৪৬ দিনের লম্বা ছুটিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- নির্বাচনের ফলাফল কবে; সময় জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন
- মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা: ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বাড়ছে
- পে-স্কেল: ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিল সরকারি কর্মচারীরা
- দেশে ফিরল প্রবাসীদের ৪ লাখ ৭২ হাজার পোস্টাল ব্যালট: জানুন ফলাফল
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন
- রমজানের আগে কমে গেল এলপিজি গ্যাসের দাম
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে গভর্নরের সতর্কবার্তা
- ভোটকেন্দ্রে নেওয়া যাবে মোবাইল, তবে মানতে হবে যেসব শর্ত
- পে-স্কেল ২০২৬: বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
