বাচ্চা নিতে বারবার ব্যর্থ! এই ১০ ভুল এড়ালেই মিলবে সমাধান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সমাজে প্রতি চারটি দম্পতির মধ্যে একজন (প্রায় ২৫ শতাংশ) সন্তান ধারণে অক্ষমতা বা 'ইনফার্টিলিটি' জনিত সমস্যার সম্মুখীন হন। এই সমস্যার জন্য স্বামী বা স্ত্রী, উভয়ের যে কেউ দায়ী থাকতে পারেন (সমস্যা সাধারণত ৫0/৫0 শতাংশ)। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ ভুল ধারণা ও মানসিক চাপ এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের দেওয়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিচে দেওয়া হলো, যা আপনাকে প্রাকৃতিক উপায়ে গর্ভধারণে সহায়তা করতে পারে:
১. মনস্তাত্ত্বিক ভুল ধারণা দূর করুন
* ভুল সময়সীমা: মাত্র এক বা দুই মাস চেষ্টা করেই নিজেকে 'রোগী' ভাববেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, কোনো দম্পতি কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ মাস (এক বছর) নিয়মিত চেষ্টা করার পরও যদি ব্যর্থ হন, তবেই তাকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়।
* মানসিক চাপ পরিহার: বাচ্চা না হওয়ার কারণে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়া বা বাজারের চটকদার হারবাল ওষুধ (হালুয়া/মিল্কশেক) খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই চাপ পুরুষের সেক্সুয়াল পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২. ডিম্বস্ফোটন ও সহবাসের সঠিক সময় (গোল্ডেন পিরিয়ড)
* ১৪ দিনের ভুল ধারণা: মাসিক শুরু হওয়ার ১৪তম দিনেই সহবাস করতে হবে—এই ধারণাটি ভুল। ডিম্বস্ফোটনের (Ovulation) সময়কাল নির্ভর করে আপনার মাসিক চক্রের মোট দিনের ওপর। যেমন, ৩২ দিনের চক্রে ডিম্বস্ফোটন ১৮তম দিনে হতে পারে। ডিম্বাণু আসার এই সময়টাকেই 'গোল্ডেন পিরিয়ড' বলা হয়।
* সঠিক কৌশল: ডিম্বাণু জরায়ুতে আসার পর তা মাত্র ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত থাকে। কিন্তু শুক্রাণু ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তাই ডিম্বাণু আসার পরে সহবাস করার চেয়ে, ডিম্বাণু আসার পূর্ববর্তী সময়ে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
* নিয়মিত নয়: বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রতিদিন সহবাস করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি পুরুষদের মধ্যে পারফরম্যান্স অ্যানজাইটি তৈরি করে।
৩. সাধারণ স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ভূমিকা
* ওভুলেশন ট্র্যাকিং: তলপেটে ব্যথা, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা স্রাবের পরিবর্তন দেখে ডিম্বস্ফোটনের লক্ষণগুলো বোঝা যেতে পারে, তবে এটি কখনোই ১০০% নির্ভুল নয়। ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে কি না, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার সাধারণ স্বাস্থ্যের অবস্থা।
* পুষ্টি ও হরমোন: গর্ভধারণের জন্য পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং শরীরে হরমোনের সঠিক ভারসাম্য (Hormone Balance) রক্ষা করা জরুরি।
* বয়স ও ঝুঁকি: ৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই প্রজনন ক্ষমতা দ্রুত কমতে থাকে। বেশি বয়সে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং শিশুর শারীরিক বা মানসিক বিকলাঙ্গতার ঝুঁকি বাড়ে।
৪. ভুল ধারণা ভাঙা
* মাসিকের সময় সহবাস: মাসিকের সময় সহবাস করলে গর্ভধারণ হবে না—এমন ধারণা প্রায় ক্ষেত্রেই সত্য হলেও, বিরল ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন সহবাস করেও গর্ভধারণের প্রমাণ আছে। তবে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় এটি পরিহার করা উচিত।
* গর্ভনিরোধক: জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা কনডম দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে না। এগুলো ব্যবহার বন্ধ করার এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসে।
* সহবাসের অবস্থান: জরায়ুর অবস্থান (Anteverted নাকি Retroverted) অনুযায়ী বিভিন্ন অবস্থান চেষ্টা করা যেতে পারে। সহবাসের পরে কিছুক্ষণ পা উঁচু করে রাখলে শুক্রাণু দ্রুত ডিম্বাণুর কাছে যেতে সাহায্য করতে পারে। তবে যেকোনো পজিশনেই গর্ভধারণ সম্ভব।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নবম পে-স্কেল আসছে তিন ধাপে! সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- নবম পে-স্কেল আসছে ৩ ধাপে, বেতন পাবেন জানুয়ারি ২০২৬ থেকে
- নতুন পে স্কেল নিয়ে সুখবর, সবশেষ যা জানা গেল
- নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ কবে; যা জানা গেল
- নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ আসছে ডিসেম্বরেই
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে দ্বন্দ্বে অর্থ মন্ত্রণালয় ও কর্মচারী ঐক্য
- ভূমিকম্পের রেড জোন: সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে দেশের যে ৯ জেলা
- দেশে ফেরা নিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন তারেক রহমান
- আল্টিমেটামের শেষ দিন আজ: পে-স্কেল রিপোর্ট জমা নিয়ে যা জানা গেলো
- সরকারের যে দুই উপদেষ্টা বিএনপির হয়ে ভোটে লড়বেন
- যেসব খাবার খেলে পুরুষের শুক্রাণু কমে, তালিকা দেখুন
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- রাজনৈতিক আশ্রয়ে নতুন মোড়: ভারত ছেড়ে কোন দেশে যেতে চাইছেন শেখ হাসিনা
- ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা! ৪০০ কিমি নতুন ফাটলরেখা শনাক্ত
- 22 ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত today
