২০২৬ সালেই ৯ম পে-স্কেল; সর্বনিম্ন বেতন হতে পারে ৩৫ হাজার টাকা!
৯তম পে-স্কেল: জানুয়ারিতেই সুপারিশ জমার সম্ভাবনা, বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ও বৈষম্য নিরসনের পথে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে জাতীয় বেতন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যেই কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করতে পারে।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
গত ১৭ ডিসেম্বর কমিশনের ৫ম পূর্ণাঙ্গ সভায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার জন্য একটি ত্রি-স্তরীয় রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়:
১. সুপারিশ প্রণয়ন: অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি।
২. পর্যালোচনা: সচিব কমিটির সভায় প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই।
৩. চূড়ান্ত অনুমোদন: উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন শেষে গেজেট প্রকাশ।
কর্মচারীদের ৭ দফা দাবি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ বৈষম্য নিরসনে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
* অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা।
* অন্তর্বর্তীকালীন ৫০% মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান।
* ২০১৫ সালে বাতিল হওয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল।
* বঙ্গবন্ধুর ১৯৭৩ সালের ঘোষণা অনুযায়ী ১০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।
* সচিবালয় ও অন্যান্য দপ্তরের মধ্যে পদনামের বৈষম্য দূর করা।
সতর্কবার্তা: ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী মার্চ মাস থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন কর্মচারী নেতারা।
বাজেট ও বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য পরিবর্তন
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি দক্ষতার দিকে নজর দিচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে:
* সর্বনিম্ন বেতন ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকার মধ্যে রাখার সুপারিশ আসতে পারে।
* বিদ্যমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৫টি গ্রেডে নামিয়ে আনার প্রস্তাব বিবেচনাধীন।
বর্তমান সরকার কি বৈষম্য নিরসনে পদক্ষেপ নিচ্ছে
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, বর্তমান সরকার কি আসলেই বৈষম্য দূর করতে আন্তরিক? সরকারের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বৈষম্য নিরসনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
১. সংস্কার কমিশন গঠন: জনপ্রশাসনের বিশাল বেতন বৈষম্য কমাতে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন কাজ করছে।
২. গ্রেড কমানোর উদ্যোগ: উচ্চ ও নিম্ন পদের ব্যবধান কমাতে গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১০-১২টিতে আনার পরিকল্পনা চলছে।
৩. সুবিধা পুনর্বহাল: টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি ও আর্থিক দিকগুলো সরকার গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: বিশাল বাজেট বরাদ্দ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি থাকায় সরকার কিছুটা ধীরগতিতে কিন্তু সুশৃঙ্খলভাবে এগোতে চাইছে।
সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না—এমনটি বলা ঠিক হবে না, বরং পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খোঁজা হচ্ছে। জানুয়ারিতে রিপোর্ট জমা পড়ার পর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপই বলে দেবে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কতটা দ্রুত নিরসন হবে।
সেলিম/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন পে-স্কেল: জানা গেল সুনির্দিষ্ট তারিখ ও বেতন বৃদ্ধির হিসাব
- আজকের সোনার বাজারদর: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- ভরিতে ৮০ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ‘আশার আলো’ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য
- বাংলাদেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ স্বর্ণের দাম
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি!
- পে স্কেল: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই বেতন বৃদ্ধি চান ৯০ শতাংশ মানুষ
- দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
- ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ বার কমলো স্বর্ণের দাম, আজকের দর কত হল
- সরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল
- সোনার বাজারে নজিরবিহীন ধস: ভরিতে কমলো ৪০ হাজার টাকা
- এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা নিয়ে যা জানা গেলো
- রোজা ২০২৬: রমজান শুরুর নতুন তারিখ ঘোষণা
- ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরিতে ১২ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
