৬ ব্যাংকের ঋণ আদায় লাগবে ৩৩৩ বছর
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের (সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক, এবং বিডিবিএল) শীর্ষ ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় হচ্ছে নামমাত্র, যা ব্যাংকিং খাতে এক গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। এই বিপুল ঋণের একটি বড় অংশই দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। প্রভাবশালী শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা কখনো ব্যাংকের সঙ্গে যোগসাজশে, আবার কখনো সরাসরি ক্ষমতার হস্তক্ষেপে এই ঋণ নিয়েছেন। এখন সেই টাকা তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো—অথচ এগুলি সাধারণ মানুষের আমানতের অর্থ।
সংকটের চিত্র: বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ
বর্তমানে এই ছয় ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ জন করে মোট ১২০ জন খেলাপি গ্রাহকের কাছেই আটকে আছে বিশাল অঙ্কের ৮৫ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। এই অঙ্ক ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ৫৭ শতাংশ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হলো জনতা ব্যাংকের। এই ব্যাংকের শীর্ষ ২০ গ্রাহকের কাছেই পাওনা ৫৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা—যা ১২০ জন শীর্ষ খেলাপির মোট পাওনার ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে শুধুমাত্র বেক্সিমকো, এস আলম, ও অ্যাননটেক্স—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে।
কচ্ছপ গতিতে আদায়: সময় লাগবে ৩৩৩ বছর!
এই ছয় ব্যাংক ২০২৫ সালে শীর্ষ ১২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৮ হাজার ৭৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) তারা আদায় করতে পেরেছে মাত্র ১২৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১.৫৮ শতাংশ।
আদায়ের এই হার বজায় থাকলে শীর্ষ ২০ খেলাপিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ টাকা তুলতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সময় লাগবে ৩৩৩ বছর—এমনই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে।
| জনতা | ৫৩,৮৪৮ | ৫,৩৮৫ | ১৫.১২ |
| অগ্রণী | ১১,৬৪৭ | ৮৯২ | ১৯ |
| রূপালী | ১০,১২৭ | ১,০০০ | ৯০.২৮ (তুলনামূলকভাবে বেশি) |
| সোনালী | ৬,৭৪৩ | ৩০০ | ০.৫০ (সবচেয়ে কম) |
| বেসিক | ২,৫৭৯ | ৪০০ | ০.১০ |
| বিডিবিএল | ৫০০ | ১০০ | ৩.০৫ |
| মোট | ৮৫,৪৪৪ | ৮,০৭৭ | ১২৮.০৫
অর্থ উপদেষ্টার কড়া বার্তা ও আইনি জটিলতা
সম্প্রতি ছয় ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে ডেকেছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে তিনি শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে তৎপরতা বাড়াতে এবং প্রতি এক-দুই মাস অন্তর আদায় পরিস্থিতির তদারকি করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন।
আদায় কম হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পক্ষ থেকে আদালতে রিট দায়েরের কথা জানিয়েছে। এই আইনি বাধা মোকাবিলায় অর্থ উপদেষ্টা ব্যাংকগুলোকে খ্যাতনামা আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে আদালতে জোরালো লড়াই করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আইনজীবী নিয়োগে বাড়তি খরচের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "তারা বেশি বেশি বোনাস নিতে পারে, অথচ ভালো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে না, এটা কোনো কথা না।" তিনি এই আইনি জটিলতা নিরসনে আইন উপদেষ্টা ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বসে আলাদা কোনো বেঞ্চ গঠন করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করছেন বলেও জানান।
জনতা ব্যাংকের ব্যাখ্যা
শীর্ষ খেলাপি ঋণের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে থাকা জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবুর রহমান ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়ার আগের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, আমানত বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয়ের উন্নতিসহ অন্যান্য সূচকে ব্যাংকের অগ্রগতি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঋণ আদায়ের জন্য মামলা করা হলেও গ্রাহকদের রিটের কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা নিরসনের চেষ্টা চলছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- স্কুলে রমজানের ছুটি শুরু কবে
- দেড় থেকে দুই বছরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে!
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- দেড় থেকে দুই বছরে বাস্তবায়ন হতে পারে নতুন পে-স্কেল
- দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ
- এক ধাক্কায় কমে গেল সোনার দাম
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজান ও ঈদের লম্বা ছুটি শুরু: জানুন বিস্তারিত
- ১২ মন্ত্রী ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে বিএনপি সরকারের যাত্রা
- রমজানে স্কুল বন্ধের নির্দেশ স্থগিত: যা জানা গেলো
- ২০ শতাংশ কমে গেল এলপি গ্যাসের দাম
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- সবার আগে রোজা শুরুর তারিখ ঘোষণা করলো ৬ দেশ
- যে কারনে শপথ নেননি রুমিন ফারহানা
- আজ ১৮, ২১, ২২,ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের দাম
- নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সুখবর
