সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বিআরটিএর ড্রাইভিং কার্ড
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। লাইসেন্স প্রিন্টিংয়ের দায়িত্বে থাকা ভারতীয় কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড প্রিন্টার্সের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন ভেন্ডর নিয়োগ না দেওয়ার কারণেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ছয় থেকে সাত মাসের আগে নতুন কার্ড বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় প্রায় ৮ লাখেরও বেশি গ্রাহকের কার্ড আটকে আছে।
ভুক্তভোগীদের চরম ভোগান্তি
সাইফ আহমেদ নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর আগে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ড হাতে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিতরণ শাখা থেকে তাকে জানানো হয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির আগে লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগী অনেক পেশাদার ড্রাইভারও তিন বছর ধরে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেও কার্ড হাতে পাননি। একজন পেশাদার ড্রাইভার আক্ষেপ করে বলেন, "সাতবার আসছি... আমি যদি এরকম সবসময় আসতে হয় আমাদের কর্ম রেখে আমাদের চাকরি নিয়ে তো টানাটানি।"
লাইসেন্স কার্ড না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা বলছেন, লাইসেন্স ছাড়া ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালানো বা পেশাদার কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
জটিলতার কারণ ও দুর্নীতির অভিযোগ
বিআরটিএ সূত্রমতে, কার্ড প্রিন্টিংয়ের ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটিজ চুক্তি অনুযায়ী সময়মতো কার্ড সরবরাহ করতে পারেনি, যার ফলে গত তিন বছর ধরে লাইসেন্স জট তৈরি হয়েছে।
* দুর্নীতির অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে যে বিআরটিএর তৎকালীন প্রকৌশল শাখার উপপরিচালক সীতাংশ শেখর বিশ্বাস সহ একটি সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভারতের নিষিদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়।
* চুক্তি বাতিল: চুক্তি অনুযায়ী সেবা না দেওয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মাদ্রাজ সিকিউরিটিজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
লাইসেন্স জট তৈরির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএ থেকে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মাদ্রাজ সিকিউরিটিজ এর সঙ্গে এই অনিয়মে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তারা অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে।
বিআরটিএ স্বীকার করেছে যে ৮ লাখের বেশি গ্রাহকের লাইসেন্স আটকে আছে। কিন্তু নতুন কোনো ভেন্ডর নিয়োগ না করা পর্যন্ত সব ধরনের লাইসেন্স কার্ড বিতরণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ। কবে নাগাদ নতুন ভেন্ডর নিয়োগ দেওয়া হবে এবং লাইসেন্স কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত নয়।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইনে লাইসেন্স সেবা চালু রয়েছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ঈদের ছুটি বাতিল আসলো নতুন নির্দেশনা
- চীন-রাশিয়ার মধ্যস্থতা: যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইরান, তবে এক শর্তে
- নতুন পে স্কেলের সুপারিশ: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ যত টাকা বাড়লো সরকারি কর্মচারীদের বেতন
- পে স্কেল নিয়ে তারেক রহমানের নতুন ভাবনা
- নবম পে স্কেল আপডেট: সংসদ অধিবেশন ও বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- যে কারনে পিছিয়ে যাচ্ছে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ঈদ বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা
- পিছিয়ে যাচ্ছে নতুন পে স্কেল: ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা সরকারের
- ঈদের টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি পাবেন না যারা
- নেতানিয়াহুর মৃত্যু না কি গুজব? তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
- মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল
- জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন
- যে কারণে মনে করা হচ্ছে নেতানিয়াহু আর নেই
- এসি চালানো শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৮ কর্মকর্তা
- কে হচ্ছেন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার
