তোফাজ্জল হ*ত্যা'য় নেতৃ:ত্ব দেন যিনি, বেরিয়ে এলো আসল মা*স্টা'র মাইন্ড
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে মোবাইল চোর সন্দেহে নিহত তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছেন ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাবেক উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল আহমেদ (২০১৮-১৯ সেশন)। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, এই ঘটনায় আরও যারা জড়িত ছিলেন, তাদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুস সামাদ (২০২০-২১), প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুলতান (২০২০-২১), গণিত বিভাগের রাব্বি (২০২১-২২), উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ফিরোজ (২০২০-২১), মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সুমন (২০২১-২২), সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ওয়াজিবুল (২০২১-২২), ফার্মেসি বিভাগের মোহাম্মদ ইয়ামুজ জামান এবং গণিত বিভাগের আহসান উল্লাহ (২০১৮-১৯) উল্লেখযোগ্য।
এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে জালাল আহমেদ এবং মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সুমনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা শাহবাগ থানায় রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুসারে, ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা তোফাজ্জলকে কিছু ছাত্র আটক করে এবং মোবাইল চুরির অভিযোগে তাকে হলের গেস্টরুমে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পরে তার মানসিক সমস্যার কথা জানার পরও তাকে পুনরায় হলের দক্ষিণ ভবনে নিয়ে গিয়ে হাত বেঁধে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়, যা তাকে অচেতন করে ফেলে।
অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহ মো. মাসুম সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
