এইচএসসির পুনঃপরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর, ফল ৩১ ডিসেম্বর
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের এই প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এ ধরনের পরীক্ষা আয়োজনের জন্য বিদ্যমান বিধিমালায় সুযোগ না থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বোর্ডগুলো।
কবে শুরু হতে পারে পুনঃপরীক্ষা?
প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে পুনঃপরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ৩ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রশ্ন প্রণয়নের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও নির্দেশনা পাওয়ার পর বোর্ডগুলো পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করবে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার জানান, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কতজন শিক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পেতে পারে?
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
এর মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন। দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। অর্থাৎ এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষার আওতায় আসতে পারে।
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।
এবার এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী।
পুনঃপরীক্ষার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে তাদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তারিখ ও নিয়ম জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে।
সোহাগ/
