এইচএসসিতে ফেল করাদের পুনঃপরীক্ষা ২ ডিসেম্বর থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে নতুন সুযোগ। এসব শিক্ষার্থীর পুনঃপরীক্ষা আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ফলাফলও প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এবং ফল প্রকাশের কার্যক্রম ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, রুটিন ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।
কবে হতে পারে এইচএসসির পুনঃপরীক্ষা?
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের উদ্যোগে একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলে নতুন করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে যেসব শিক্ষার্থীর ফল একটি বা দুটি বিষয়ের কারণে আটকে গেছে, তাদের সামনে উত্তীর্ণ হওয়ার আরেকটি পথ তৈরি হচ্ছে।
কতজন শিক্ষার্থী আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন?
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন। দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫। পুনঃপরীক্ষার সুযোগ কার্যকর হলে এই শিক্ষার্থীরা নতুন করে নিজেদের ফল উন্নত করার সুযোগ পাবেন।
এইচএসসি পরীক্ষায় এবার পাসের হার কত?
গত ৩১ অক্টোবর চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী।
পুনঃপরীক্ষার সুযোগের ঘোষণা কেন?
ফলাফল প্রকাশের দিনই এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এরপর পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ডিসেম্বরের সম্ভাব্য সময়সীমা জানান।
তবে শিক্ষার্থীদের এখনই পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। পরীক্ষার রুটিন, ফরম পূরণ, ফি এবং অংশগ্রহণের নিয়ম প্রকাশিত হলে সেসব তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া প্রায় ৪ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ডিসেম্বর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ করা সম্ভব হলে একই শিক্ষাবর্ষেই তাদের উত্তীর্ণ হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সিদ্দিকা/
