দেশে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, একটানা চলবে ২০ বছর
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার খবর পাওয়া গেছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি নতুন কূপে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। প্রাথমিক হিসাবে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কূপ থেকে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা হতে পারে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপে খননকাজ শেষে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আগুনের শিখা জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা
সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক ধারণা, সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। পরে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে কূপটির প্রকৃত গ্যাসের মজুত ও উৎপাদনক্ষমতা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) বা ডিএসটি পরীক্ষা সম্পন্ন হলে গ্যাসের পরিমাণ ও উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
২০ বছর গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই কূপ থেকে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা হতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ের হিসাব ধরে কূপটির গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।
তবে এই মূল্যায়ন সম্ভাব্য উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ের হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। চূড়ান্ত উৎপাদনক্ষমতা এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আগুনের শিখা জ্বালানোর পর বন্ধ করা হয়
বাপেক্সের ড্রিলিং ইনচার্জ রকিবুল হাসান নতুন কূপে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের খননকাজ শেষে আগুনের শিখা জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
তবে অতিরিক্ত তাপের কারণে পরে আগুনের শিখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে আবারও আগুনের শিখা জ্বালানোর কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কূপটির উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত হলে দেশের জাতীয় গ্যাস সরবরাহে এটি নতুন অবদান রাখতে পারে।
সোহাগ/
