সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
কেন ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে থামানো কঠিন
ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে অন্যসব দলের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে তাদের কৌশলগত নমনীয়তা, সংগঠিত প্রেসিং এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত নিজেদের বদলে নেওয়ার সক্ষমতা। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলোই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত করেছে।
বিশ্ব ফুটবলের অনেক বড় দল নির্দিষ্ট ফরমেশনের ওপর নির্ভরশীল হলেও আর্জেন্টিনা সেই পথে হাঁটে না। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ী ৪-৩-৩, ৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৩-৫-২ কিংবা ৫-৩-২ ফরমেশনে অনায়াসে রূপান্তরিত হতে পারে। এমনকি ম্যাচ চলাকালীনও একাধিকবার কৌশল বদলানোর ক্ষমতা রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের।
আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় শক্তি হলো পজিশনাল রোটেশন। মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা নিজেদের নির্ধারিত অবস্থানে আটকে না থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জায়গা বদল করেন। এতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য মার্কিং করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দলের আক্রমণভাগে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন লিওনেল মেসি। তাকে অনেক সময় ‘ফ্রি ম্যান’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সতীর্থরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে মেসির জন্য খালি জায়গা তৈরি করেন, যাতে তিনি তুলনামূলক কম চাপে বল পেয়ে আক্রমণ সাজাতে পারেন। এই কৌশল আর্জেন্টিনার আক্রমণকে আরও কার্যকর করে তোলে।
মিডফিল্ডেও রয়েছে দারুণ সমন্বয়। রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো ফুটবলাররা কখনো নিচে নেমে খেলা গড়ে তোলেন, আবার সুযোগ বুঝে সামনে উঠে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। তাদের এই ওঠানামা প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং আর্জেন্টিনার জন্য বাড়তি আক্রমণাত্মক বিকল্প তৈরি করে।
এর পাশাপাশি দলগত প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং বল হারানোর পর মুহূর্তেই তা পুনরুদ্ধারের মানসিকতা আর্জেন্টিনাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। স্কালোনির অধীনে প্রত্যেক খেলোয়াড় জানেন কখন প্রেস করতে হবে, কখন রক্ষণে নামতে হবে এবং কখন আক্রমণে যোগ দিতে হবে।
সামনে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচেও আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের খেলার ধরন বিবেচনায় কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারে। জর্ডান সাধারণত নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজিয়ে পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করে। ফলে স্কালোনি হয়তো খেলোয়াড়দের রোটেশন করবেন। লিওনেল মেসিকে পুরো ম্যাচে না খেলিয়ে সীমিত সময় মাঠে নামানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো নির্দিষ্ট ফরমেশন নয়; বরং ম্যাচের ভেতরে নিজেদের নতুনভাবে সাজিয়ে নেওয়ার দক্ষতা। আর এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে থামানো অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।
সোহাগ/
