স্মার্টফোনের ভিড়ে আবার জনপ্রিয় হচ্ছে ফিচার বাটুন ফোন, কেন বাড়ছে আগ্রহ
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মার্টফোনের আধিপত্যের যুগে ফিচার ফোন কি শুধুই পুরোনো দিনের স্মৃতি, নাকি ডিজিটাল আসক্তি কমানোর নতুন উপায়? সব ধরনের কাজের জন্য স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও বর্তমানে সীমিত সুবিধার ফিচার ফোনের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে ‘ফিচার ফোন’ বলতে শুধু সাধারণ বাটন ফোনকেই বোঝায় না। বরং এমন ডিভাইসকে এই শ্রেণিতে রাখা হচ্ছে, যেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে কম সুবিধা দিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে ব্যবহারকারীরা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনটাইম থেকে দূরে থাকতে পারেন।
কিছু ফিচার ফোনে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার কিছু ফোনে অ্যান্ড্রয়েড থাকলেও এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারেন। এর ফলে ফোন ব্যবহারে তৈরি হয় একটি ‘বিক্ষিপ্ততামুক্ত’ অভিজ্ঞতা।
বর্তমান প্রজন্মের ফিচার ফোনগুলোতে সাধারণত ছোট আকারের ডিসপ্লে থাকে। কিছু ফোনে রয়েছে সাদাকালো বা মিনিমালিস্টিক ইউজার ইন্টারফেস। আবার অনেক ডিভাইসে ফিরে এসেছে পুরোনো দিনের ফিজিক্যাল কিপ্যাড। পাশাপাশি টাচস্ক্রিনভিত্তিক সীমিত সুবিধার ফোনও বাজারে দেখা যাচ্ছে।
প্রযুক্তি দুনিয়ায় , , -এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কম বিভ্রান্তিকর ফোন তৈরিতে কাজ করছে। এসব ডিভাইসের লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও অনলাইন নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় স্ক্রিন, শক্তিশালী প্রসেসর এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট স্মার্টফোনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুললেও এর সঙ্গে বেড়েছে ডিজিটাল আসক্তির ঝুঁকি। ফিচার ফোনে সাধারণত টিকটক, ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করার সুযোগ থাকে না। ফলে অনেকেই এগুলোকে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বা প্রযুক্তি থেকে বিরতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
অনেকে প্রধান স্মার্টফোনের পাশাপাশি দ্বিতীয় ডিভাইস হিসেবে ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন কমানো এবং অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ধরনের ফোন বেছে নিচ্ছেন অনেকে।
তবে ফিচার ফোন নিয়ে ব্যবহারকারীদের মতামত ভিন্ন। কেউ মনে করছেন এটি প্রযুক্তির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর উপায়, আবার কেউ মনে করেন আধুনিক জীবনে স্মার্টফোনের বিকল্প নেই।
আপনি কি এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করেন? করলে এর পেছনে আপনার কারণ কী?
আশা/
