৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) আওতায় আসতে পারেন ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোররাও। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ১৭ বছর বয়সের আগেই জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শিশু-কিশোরদের এনআইডি দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হতে পারে নিবন্ধন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক নীতি-নির্ধারণী সভায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের এনআইডি নিবন্ধনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভায় ইসি সচিব আখতার আহমেদ ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের তথ্যভান্ডার তৈরির প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশু-কিশোরদের তথ্য সংগ্রহ ও পরিচয় নিবন্ধনের কাজ সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন।
তবে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন, নাকি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা একই বয়সী শিশুরাও এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
কর্মশালা করে তৈরি হবে সুপারিশ
বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগ কমিটি’র সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ একটি বিস্তারিত কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।
কর্মশালায় শিশু-কিশোরদের নিবন্ধন পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ, ডেটাবেজ তৈরি এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে। কর্মশালার মতামত ও সুপারিশ পর্যালোচনার পর কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে পারে।
বর্তমানে কত বছর বয়সে এনআইডি পাওয়া যায়?
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া এবং ভোটার হওয়া এক বিষয় নয়।
ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হতে হয়। অর্থাৎ, ১৭ বছর বয়সে এনআইডি নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয় না।
প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও আগেভাগে নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারে। তবে তাঁদের এনআইডি ব্যবহারের নিয়ম এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য সমন্বয়ের পদ্ধতি কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কেন শিশু-কিশোরদের এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা?
বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণ, পরিচয় যাচাই এবং সরকারি তথ্যভান্ডার তৈরির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কম বয়স থেকেই শিশুদের পরিচয় নিবন্ধিত থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হতে পারে।
এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে তথ্যের ভুল বা অসংগতি শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার নকশা ও বাস্তবায়নের ওপর।
দেশে বর্তমানে ভোটার কত?
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন।
কবে থেকে শিশুদের এনআইডি দেওয়া শুরু হবে?
৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের এনআইডি নিবন্ধনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। প্রথমে কর্মশালার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
তাই এখনই শিশুদের এনআইডি করার আবেদন শুরু হয়েছে বা নির্দিষ্ট তারিখ থেকে নিবন্ধন করা যাবে, এমন তথ্য নেই। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের পরই নিবন্ধনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সোহাগ/
