১ কাঠা কত শতাংশ জমি, অঞ্চলভেদে হিসাবের পার্থক্য বুঝুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে জমি কেনাবেচা, জমির দলিল তৈরি কিংবা ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করার সময় কাঠা, শতাংশ ও বিঘার হিসাব জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই জানেন, ১ কাঠা সমান ৭২০ বর্গফুট। কিন্তু এই ১ কাঠা জমি কত শতাংশ, আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঠার মাপে কোনো পার্থক্য আছে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত আদর্শ পরিমাপ অনুযায়ী, ১ কাঠা সমান ৭২০ বর্গফুট বা প্রায় ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ জমি। তবে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত জমির মাপ এবং পুরোনো দলিলের হিসাবের কারণে কিছু এলাকায় ভিন্নতা দেখা যেতে পারে।
১ কাঠা জমি কত শতাংশ?
বাংলাদেশে প্রচলিত আদর্শ হিসাব অনুযায়ী, ১ শতাংশ জমি সমান ৪৩৫ দশমিক ৬ বর্গফুট। অন্যদিকে ১ কাঠা সমান ৭২০ বর্গফুট।
এই হিসাবে ১ কাঠাকে শতাংশে রূপান্তর করতে ৭২০-কে ৪৩৫ দশমিক ৬ দিয়ে ভাগ করতে হবে।
অর্থাৎ:
-
১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
-
১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট
-
১ কাঠা = প্রায় ১.৬৫২৯ শতাংশ
-
সহজ হিসাবে ১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ
তাই ৫ কাঠা জমি হলে তা প্রায় ৮.২৬ শতাংশ এবং ১০ কাঠা জমি হলে প্রায় ১৬.৫৩ শতাংশ হবে।
বিঘা, কাঠা ও শতাংশের সম্পর্ক
বাংলাদেশে জমির হিসাবের ক্ষেত্রে বিঘা, কাঠা ও শতাংশ বহুল ব্যবহৃত একক। প্রচলিত আদর্শ হিসাবে ২০ কাঠায় ১ বিঘা।
হিসাবটি হলো:
-
১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
-
২০ কাঠা = ১ বিঘা
-
১ বিঘা = ১৪ হাজার ৪০০ বর্গফুট
-
১ বিঘা = প্রায় ৩৩.০৬ শতাংশ
-
১ একর = ১০০ শতাংশ
-
১ একর = ৪৩ হাজার ৫৬০ বর্গফুট
অর্থাৎ, ৩ বিঘা জমি প্রায় ৯৯.১৭ শতাংশ। আর ১ একর জমি প্রায় ৩.০২৫ বিঘার সমান।
অঞ্চলভেদে কাঠার হিসাব কেন আলাদা হয়?
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি পরিমাপের জন্য কাঠা, বিঘা, কানি, গণ্ডা ও ছটাকের মতো একক প্রচলিত রয়েছে। তবে সব অঞ্চলে এসব এককের ব্যবহার ও স্থানীয় হিসাব একই রকম নয়।
কোনো এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রচলিত কাঠা বা বিঘার হিসাবের সঙ্গে আদর্শ ৭২০ বর্গফুটের কাঠার পার্থক্য থাকতে পারে। আবার পুরোনো দলিলে স্থানীয় মাপের উল্লেখ থাকায় বর্তমান প্রচলিত হিসাবে রূপান্তর করতে গিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
বিশেষ করে কানি ও গণ্ডার মতো এককের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পার্থক্য বেশি দেখা যায়। তাই কোনো এলাকার স্থানীয় মাপকে পুরো বাংলাদেশের জন্য একই নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
জমির সরকারি হিসাব কোন এককে করা হয়?
জমির সরকারি রেকর্ড ও পরিমাপের ক্ষেত্রে শতাংশ, শতক, ডেসিমেল এবং একরের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। ১ শতাংশ, ১ শতক ও ১ ডেসিমেল একই পরিমাণ জমি বোঝায়।
অর্থাৎ, ১ শতাংশ = ১ শতক = ১ ডেসিমেল = ৪৩৫.৬ বর্গফুট।
জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং অন্যান্য ভূমিসংক্রান্ত কাগজপত্রে উল্লেখিত জমির পরিমাণ মিলিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে পুরোনো দলিলে কাঠা বা বিঘার হিসাব থাকলে সেটিকে সরাসরি বর্তমান আদর্শ মাপে ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মৌজার পরিমাপের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।
জমির পরিমাণ নিজে হিসাব করবেন যেভাবে
জমির মাপ বর্গফুটে জানা থাকলে সহজেই শতাংশ বের করা যায়। এজন্য মোট বর্গফুটকে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করতে হবে।
উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি জমির দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট এবং প্রস্থ ৪৮ ফুট। তাহলে জমিটির মোট আয়তন হবে:
৬০ × ৪৮ = ২ হাজার ৮৮০ বর্গফুট।
এবার ২ হাজার ৮৮০-কে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে প্রায় ৬.৬১ শতাংশ।
অন্যদিকে, জমির পরিমাণ শতাংশে জানা থাকলে সেটিকে ৪৩৫.৬ দিয়ে গুণ করলেই বর্গফুট পাওয়া যাবে।
জমি কেনার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন
জমি কেনার সময় শুধু বিক্রেতার বলা কাঠা বা বিঘার হিসাবের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বরং কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।
১. দলিলে জমির পরিমাণ কত শতাংশ বা একর লেখা আছে, তা দেখুন।
২. সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও মৌজা নকশার সঙ্গে জমির দাগ নম্বর মিলিয়ে নিন।
৩. পুরোনো দলিলে কাঠা, বিঘা বা স্থানীয় কোনো একক থাকলে তার রূপান্তর যাচাই করুন।
৪. জমির বাস্তব সীমানা ও কাগজে উল্লেখিত পরিমাণ মিলিয়ে দেখুন।
৫. প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপিয়ে নিন।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের প্রচলিত আদর্শ হিসাবে ১ কাঠা জমি ৭২০ বর্গফুট বা প্রায় ১.৬৫ শতাংশ। তবে অঞ্চলভেদে স্থানীয় মাপের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই জমি কেনাবেচা, বণ্টন কিংবা নামজারির আগে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান ও মৌজার হিসাব যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সোহাগ/
