সন্তান না হওয়ায় সংসার ভাঙার অভিযোগ, স্ত্রীর আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাত বছরের সংসার। একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি, ভালোবাসা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন। কিন্তু সন্তান না হওয়ার কারণে সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশালে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্বামীর কাছে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছেন এক নারী। বারবার সময় চাইলেও স্বামীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হচ্ছে না বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে।
ভিডিওতে ওই নারীকে স্বামীর পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়। তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন এবং অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। এমনকি প্রয়োজনে বাবার জমি বিক্রি করেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেন তিনি। তাঁর আকুতি, সন্তান না হলেও যেন সংসারটি ভেঙে না যায়।
কিন্তু ভিডিওতে স্বামীকে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে দেখা যায়। স্ত্রীর কান্না ও অনুরোধের দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের মনে কষ্টের জন্ম দিয়েছে।
সন্তান না হওয়ায় দায় কি শুধু নারীর?
সন্তান না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা প্রচলিত। অনেক ক্ষেত্রে দম্পতির সন্তান না হলে প্রথমেই নারীকে দায়ী করা হয়। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বন্ধ্যত্ব বা সন্তান ধারণে জটিলতার কারণ নারী কিংবা পুরুষ, উভয়ের ক্ষেত্রেই থাকতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে দুজনেরই সমস্যা থাকতে পারে, এমনকি পরীক্ষা করেও নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না।
তাই সন্তান না হওয়ার জন্য শুধু একজন নারীকে দায়ী করা যেমন অন্যায়, তেমনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা ছাড়াই কাউকে দোষারোপ করাও অনুচিত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সন্তান কি দাম্পত্য জীবনের একমাত্র শর্ত?
সন্তান একটি পরিবারের আনন্দের বড় অংশ হতে পারে। তবে দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি শুধু সন্তান নয়। ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার মানসিকতাও একটি সংসারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
কোনো দম্পতির সন্তান না হলে তাঁদের সম্পর্ক, অনুভূতি কিংবা একসঙ্গে কাটানো জীবনের মূল্য কমে যায় না। সন্তান না হওয়ার কারণে কাউকে অপমান করা বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা কখনোই গ্রহণযোগ্য আচরণ হতে পারে না।
নারীর কষ্ট ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
সন্তান না হওয়ার কারণে নারীদের ওপর সামাজিক চাপ তৈরি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অনেক নারী পরিবার ও সমাজের নানা প্রশ্ন, কটূক্তি এবং দোষারোপের মুখোমুখি হন। অথচ সন্তান ধারণের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারের উচিত দোষারোপ না করে সংশ্লিষ্ট দম্পতির পাশে দাঁড়ানো। চিকিৎসা, মানসিক সমর্থন এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন।
বরিশালের এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা দৃশ্য অনেককে আবেগাপ্লুত করেছে। তবে ভিডিওর বাইরের পুরো ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে মনে রাখা দরকার, সন্তান না হওয়া কোনো অপরাধ নয়। একজন নারীর পরিচয়, মর্যাদা ও জীবনের মূল্য শুধু মাতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আশা/
