পাকিস্তানের ৪ প্রদেশ ভেঙে ১২ করার পরিকল্পনা, হতে পারে গণভোট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির বর্তমান চারটি প্রদেশ ভেঙে ১২টি প্রদেশ গঠনের একটি পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশজুড়ে গণভোট আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ-এর ৮ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ২৮তম সংবিধান সংশোধনী সংসদে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এর আগে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরুর সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে ১২টি প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে। নতুন প্রদেশগুলোর সীমানা, প্রশাসনিক কাঠামো কিংবা বাস্তবায়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কোন প্রদেশ ভেঙে কতটি করা হতে পারে?
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশকে ভাগ করে মোট ১২টি প্রদেশ গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। সম্ভাব্য কাঠামোটি হলো:
-
পাঞ্জাব: বর্তমান প্রদেশটি ভেঙে ৪টি প্রদেশ করা হতে পারে।
-
খাইবার পাখতুনখাওয়া: ৩টি প্রদেশে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে।
-
বেলুচিস্তান: এই প্রদেশ থেকেও ৩টি প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
-
সিন্ধ: বর্তমান প্রদেশটিকে ২ ভাগ করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের প্রদেশের সংখ্যা চার থেকে বেড়ে ১২ হবে। তবে কোন অঞ্চল নিয়ে নতুন প্রদেশ গঠিত হবে, সেগুলোর সীমানা কোথায় থাকবে কিংবা প্রশাসনিক সদর দপ্তর কোথায় হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
কেন প্রদেশের সংখ্যা বাড়াতে চায় পাকিস্তান?
প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তি হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অঞ্চলভেদে উন্নয়নের অসমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ছোট প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা গেলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছানো সহজ হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশ বা রাজনৈতিক দলকে দুর্বল করা নয়। বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনকে আরও কার্যকর করাই এর লক্ষ্য।
সংবিধান সংশোধনের আগে গণভোটের পরিকল্পনা
নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়টি পাকিস্তানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। প্রদেশের সীমানা পরিবর্তনের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিচয়, রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক সম্পদ এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রশ্ন জড়িত।
এ কারণে সংসদে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে দেশজুড়ে গণভোটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রদেশ গঠনের পক্ষে জনগণের সমর্থন কতটা রয়েছে, তা যাচাই করতে চায় পরিকল্পনার উদ্যোক্তারা।
তবে গণভোটের প্রস্তাব থাকলেও ভোটের তারিখ, প্রশ্নপত্র বা আয়োজনের পদ্ধতি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বাস্তবায়নে কী কী বাধা আসতে পারে?
চারটি প্রদেশকে ১২টিতে রূপান্তর করা সহজ হবে না। এ জন্য নতুন সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি দপ্তর, প্রশাসনিক দায়িত্ব, আর্থিক সম্পদ এবং উন্নয়ন বাজেট কীভাবে ভাগ হবে, তা ঠিক করতে হবে।
এ ছাড়া নতুন প্রদেশ গঠনের ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন ও রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি। প্রদেশের সীমানা পরিবর্তনের মতো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের সাংবিধানিক অনুমোদনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে দেশজুড়ে গণভোট হলেও সেটিই নতুন প্রদেশ গঠনের জন্য যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন হবে সংসদীয় প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের চার প্রদেশ ভেঙে ১২টি করার পরিকল্পনা দেশটির প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী দিনে রাজনৈতিক ঐকমত্য, গণভোটের উদ্যোগ এবং সংবিধান সংশোধনের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে পরিকল্পনাটির ভবিষ্যৎ।
সোহাগ/
