ভয়াবহ বন্যায় ও ভূমিধসে ৪০০ মানুষের প্রাণহীন
মিয়ানমারে টাইফুন ইয়াগির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ জনে, এবং এখনও ৮৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির সামরিক সরকারের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এ বছর এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে টাইফুন ইয়াগি। ভিয়েতনাম, লাওস, চীন ও ফিলিপাইন অতিক্রম করার পর এই টাইফুন মিয়ানমারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এর ফলে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।
ভিয়েতনামে টাইফুনের আঘাতে প্রায় ৩০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ধ্বংস হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, মিয়ানমারে টাইফুন ইয়াগির প্রভাবে প্রায় ৮ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, পানির উৎস, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে দেশটি আগে থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল, এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা লক্ষাধিক মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে। এই পরিস্থিতিতে জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
