বিয়ের গুঞ্জন থেকে বিচ্ছেদ, কেন ভেঙেছিল সালমান-ঐশ্বরিয়ার প্রেম
নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের সম্পর্কগুলোর একটি ছিল সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের। তাঁদের প্রেম, ঘনিষ্ঠতা এবং বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যে সম্পর্ক একসময় বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিই রূপ নেয় তিক্ত বিচ্ছেদে। সন্দেহ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম আলোচিত কারণ হয়ে ওঠে।
১৯৯৯ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির সিনেমা ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’-এ একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কাছাকাছি আসেন সালমান ও ঐশ্বরিয়া। তখন সালমান বলিউডের প্রতিষ্ঠিত তারকা। অন্যদিকে, মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার পর হিন্দি সিনেমায় নিজের অবস্থান তৈরি করছিলেন ঐশ্বরিয়া। সিনেমার পর্দার রসায়ন ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনেও তাঁদের সম্পর্কের আলোচনার জন্ম দেয়। একপর্যায়ে তাঁদের বিয়ে নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সম্পর্কের শুরুতে যে ঘনিষ্ঠতা ছিল, সময়ের সঙ্গে তাতে দূরত্ব তৈরি হয়। ঐশ্বরিয়ার সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সালমানের সন্দেহ এবং দুজনের মধ্যে ঝগড়ার খবর বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
বিচ্ছেদের পেছনে কী অভিযোগ করেছিলেন ঐশ্বরিয়া?
২০০২ সালে ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া তাঁদের সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। তাঁর দাবি ছিল, বিচ্ছেদের পরও সালমান সম্পর্কটি মেনে নিতে পারেননি। তিনি ফোন করে নানা কথা বলতেন এবং ঐশ্বরিয়ার সহ-অভিনেতাদের নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতেন।
সেই সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া আরও অভিযোগ করেন, সম্পর্ক চলাকালে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় দুর্ব্যবহার, সন্দেহ এবং অসম্মানজনক আচরণের কারণে সম্পর্কটি তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। এমন পরিস্থিতির পরও তাঁকে স্বাভাবিকভাবে শুটিং চালিয়ে যেতে হতো।
তবে ঐশ্বরিয়ার শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন সালমান খান। ফলে তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
বাসার সামনে সালমানের উত্তেজিত আচরণ নিয়ে আলোচনা
২০০১ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে ঐশ্বরিয়ার বাসার সামনে সালমানের উত্তেজিত আচরণের একটি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। পরবর্তী সময়ে সালমান নিজেও ঐশ্বরিয়ার বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ঐশ্বরিয়ার পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতির কথাও স্বীকার করেছিলেন সালমান। এসব ঘটনা তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
২০০৩ সালে সম্পর্ক শেষ করার ঘোষণা ঐশ্বরিয়ার
দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ২০০৩ সালের ৬ এপ্রিল সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সব ধরনের সম্পর্ক শেষ করার ঘোষণা দেন ঐশ্বরিয়া। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, নিজের মানসিক শান্তি, আত্মসম্মান এবং পরিবারের মর্যাদার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এমনকি ভবিষ্যতে সালমানের সঙ্গে আর কাজ না করার সিদ্ধান্তের কথাও স্পষ্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। এর মধ্য দিয়ে বলিউডের আলোচিত এই প্রেমের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
বিচ্ছেদের পর কার জীবন কোন পথে?
সালমানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ঐশ্বরিয়ার জীবনে আসেন অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। তাঁদের সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ নেয় ২০০৭ সালে। ২০১১ সালে তাঁদের কন্যাসন্তান আরাধ্যার জন্ম হয়।
অন্যদিকে, সালমান খান এখনো বিয়ে করেননি। ২০১২ সালে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঐশ্বরিয়া জানান, তিনি অতীতের সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে এসেছেন। পুরোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতেও আগ্রহী নন তিনি।
একসময় যে সম্পর্ককে ঘিরে বলিউডে বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, সেই সম্পর্কের পরিণতি হয়েছিল বিচ্ছেদে। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের সেই অধ্যায় নিয়ে আলোচনা এখনো থেমে নেই।
আশা/
