‘অন্যের অপমান কবে থেকে উপার্জনের মাধ্যম’, ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে মেহজাবীন
নিজস্ব প্রতিবেদক: আই দিয়ে তারকাদের চেহারা ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, ভিউ, লাইক ও অর্থ আয়ের প্রতিযোগিতায় একজন মানুষের অপমানকে কীভাবে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে নেওয়া হচ্ছে?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তারকাদের চেহারা বসিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। এ ধরনের ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়াকে বিনোদন নয়, বরং অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব কনটেন্ট শেয়ার করে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী।
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন লেখেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ।’
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সামাজিক মাধ্যমের পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত কিছু আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে ভিডিওগুলো ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মেহজাবীনের মতে, এ ধরনের কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন তা আর শুধু একজনের অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এর মধ্য দিয়ে বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র সামনে আসে।
ডিপফেক ভিডিওর শিকার ব্যক্তিকে সম্মান করার ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নিজের পরিবারের কেউ হলে কী হতো, তা ভাবতে বলা হয়। তবে মেহজাবীনের প্রশ্ন আরও মৌলিক।
তিনি লেখেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
সামাজিক মাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন মেহজাবীন। তিনি স্বীকার করেছেন, অনেকের কাছে কনটেন্ট তৈরি জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম। মানুষের বাস্তবতা ও সংগ্রামও তিনি অস্বীকার করছেন না।
তবে অন্য একজনকে অপমান করে জনপ্রিয়তা অর্জন কিংবা অর্থ উপার্জনের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মেহজাবীনের ভাষায়, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
অভিনেত্রীর বক্তব্য, জনপ্রিয়তা কিংবা আর্থিক লাভের আশায় কারও সম্মানহানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
মেহজাবীন মনে করেন, এআই দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর কনটেন্টের সমস্যা এখন শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিউ ও এনগেজমেন্টের প্রতিযোগিতায় যে কেউ এমন কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।
তাঁর উদ্বেগ শুধু যারা এসব ভিডিও তৈরি করছেন, তাঁদের নিয়ে নয়। যারা ভিডিওগুলো স্বেচ্ছায় শেয়ার করছেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা বাড়াচ্ছেন কিংবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
পোস্টের শেষাংশে মেহজাবীন সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট শেয়ার করার আগে নিজের বিবেক ও দায়িত্ববোধ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, অন্যের অপমানকে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কেউ যেন পরোক্ষভাবে সেই অন্যায়ের অংশ হয়ে না পড়েন।
এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই ব্যক্তির পরিচয়, সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষার প্রশ্ন সামনে আসছে। মেহজাবীনের বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। তাঁর বার্তা স্পষ্ট, প্রযুক্তি বা জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই একজন মানুষের মর্যাদাহানির অজুহাত হতে পারে না।
আশা/
