iPhone 18 Pro Max সম্পূর্ণ রিভিউ
নিজস্ব প্রতিবেদক: অ্যাপলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন iPhone 18 Pro Max বাজারে আসার পর থেকেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে iPhone 17 Pro Max-এর তুলনায় নতুন মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন খুব বেশি চোখে পড়ে না। ডিজাইন, ডিসপ্লে ও সামগ্রিক গঠনে আগের মডেলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে অ্যাপল। তবে ব্যাটারি, ক্যামেরা এবং Dynamic Island-এ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে প্রিমিয়াম আইফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন, এমন ক্রেতাদের জন্য প্রশ্ন হলো, নতুন iPhone 18 Pro Max কি আগের মডেল থেকে আপগ্রেড করার মতো যথেষ্ট সুবিধা দিচ্ছে?
ডিজাইনে বড় পরিবর্তন নেই, বেড়েছে ওজন
iPhone 18 Pro Max এবং iPhone 17 Pro Max-এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পুরুত্ব প্রায় একই। দুই ফোনের মাপ ১৬৩.৪ × ৭৮ × ৮.৭৫ মিলিমিটার। তবে নতুন মডেলের ক্যামেরা বাম্প আগের তুলনায় কিছুটা উঁচু বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ওজনের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। iPhone 17 Pro Max-এর ওজন ২৩৩ গ্রাম হলেও iPhone 18 Pro Max-এর ওজন ২৪৯ গ্রাম। অর্থাৎ নতুন ফোনটি আগের মডেলের চেয়ে ১৬ গ্রাম ভারী।
এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বড় ব্যাটারি ও উন্নত ভ্যাপার চেম্বারের কথা বলা হয়েছে। নতুন মডেলে ৫,৩৯১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি রয়েছে, যেখানে আগের মডেলে ছিল ৪,৮২৩ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার। পাশাপাশি নতুন ভ্যাপার চেম্বার আগেরটির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় বলে পর্যালোচনায় দাবি করা হয়েছে।
রঙের ক্ষেত্রেও নতুনত্ব এনেছে অ্যাপল। iPhone 18 Pro Max পাওয়া যাচ্ছে Glacier Blue, Burgundy ও Black রঙে। ফোনটির Dynamic Island-ও আগের তুলনায় ছোট করা হয়েছে।
ডিসপ্লেতে আগের প্রযুক্তির ধারাবাহিকতা
iPhone 18 Pro Max-এ রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির Super Retina XDR OLED ডিসপ্লে। এর রেজল্যুশন ২৮৬৮ × ১৩২০ পিক্সেল এবং পিক্সেল ঘনত্ব ৪৬০ পিপিআই। ProMotion প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট পাওয়া যায়।
Always-On Display সুবিধার কারণে ফোনের স্ক্রিন পুরোপুরি চালু না করেও সময়, নোটিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যায়।
উজ্জ্বলতার ক্ষেত্রেও আগের মডেলের সঙ্গে মিল রয়েছে। ডিসপ্লের সাধারণ সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১,০০০ নিট, HDR কনটেন্টে সর্বোচ্চ ১,৬০০ নিট এবং বাইরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩,০০০ নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ১ নিট পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
ডিসপ্লেতে রয়েছে P3 Wide Color, True Tone এবং Dolby Vision, HDR10+/HDR10 ও HLG সমর্থন। সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে Ceramic Shield 2।
তবে ডিসপ্লের সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন হলো ছোট Dynamic Island। এতে স্ক্রিনের ওপরের অংশে তুলনামূলক বেশি জায়গা পাওয়া যায়। নতুন নকশার Dynamic Island-এ একসঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি Live Activities দেখানোর সুবিধাও রয়েছে। ফলে নেভিগেশন, গান চালানো কিংবা খেলার লাইভ স্কোরের মতো তথ্য একসঙ্গে দেখা সহজ হতে পারে।
বায়োমেট্রিক নিরাপত্তার জন্য আগের মতোই Face ID রয়েছে। তবে আঙুলের ছাপ শনাক্ত করার Touch ID যুক্ত করা হয়নি।
ক্যামেরায় পরিবর্তন, তবে সব ছবিতে বড় পার্থক্য নেই
iPhone 18 Pro Max-এর ক্যামেরায় অন্যতম নতুন সংযোজন হলো Variable Aperture সুবিধা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী ক্যামেরায় কতটা আলো প্রবেশ করবে এবং ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড কতটা ঝাপসা হবে, তা নিয়ন্ত্রণের বেশি সুযোগ পাবেন।
পর্যালোচনায় iPhone 18 Pro Max-এর f/1.48 অ্যাপারচারে তোলা ছবির সঙ্গে iPhone 17 Pro Max-এর f/1.78 অ্যাপারচারে তোলা ছবি তুলনা করা হয়েছে। দুই ফোনেই শাটার স্পিড ১/৩০ সেকেন্ড রাখা হয়েছিল। নতুন মডেলে ISO ছিল ১০০০, আর আগের মডেলে ১২৫০।
তবে তুলনামূলক ছবিগুলোতে সাধারণ চোখে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। বিভিন্ন কম আলোতে তোলা ছবিতেও দুই ফোনের ফলাফল প্রায় একই রকম ছিল বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ রাতের বা কম আলোতে ছবি তোলার ক্ষেত্রে iPhone 18 Pro Max সব সময় বড় ধরনের উন্নতি দেখাবে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।
তবে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড ঝাপসা করা বা Depth of Field নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন Variable Aperture ক্যামেরা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। যারা ছবি তোলার সময় আলোর পরিমাণ ও ব্যাকগ্রাউন্ডের ফোকাস নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাঁদের কাছে এই পরিবর্তন বেশি কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড?
iPhone 18 Pro Max-এ বড় ব্যাটারি, ছোট Dynamic Island এবং Variable Aperture ক্যামেরার মতো পরিবর্তন রয়েছে। তবে ডিসপ্লে, ফোনের মূল নকশা ও Face ID-এর ক্ষেত্রে আগের মডেলের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে।
তাই iPhone 17 Pro Max ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফোনটি কতটা প্রয়োজনীয়, তা নির্ভর করবে তাঁদের ব্যবহারের ধরন ও নতুন ফিচারের প্রয়োজনের ওপর। বেশি ব্যাটারি সক্ষমতা এবং ক্যামেরায় বাড়তি নিয়ন্ত্রণ যাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁরা নতুন মডেল বিবেচনা করতে পারেন।
অন্যদিকে, যাঁরা মূলত ডিসপ্লে, সাধারণ ছবি তোলা কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন চান, তাঁদের জন্য আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই মডেলের সুবিধা ও দামের পার্থক্য বিবেচনা করা ভালো।
বাংলাদেশে কেনার আগে স্থানীয় বাজারে ফোনটির দাম, অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল সংস্করণ এবং ওয়ারেন্টির বিষয়গুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।
আশা/
