অ্যাডভেঞ্চার বাইক কিনবেন, দেখে নিন ৫টি মডেল
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ভ্রমণ, পাহাড়ি রাস্তা কিংবা ভাঙাচোরা পথে মোটরসাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা নিতে চান অনেকেই। সাধারণ বাইকের তুলনায় অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেলে উঁচু গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, দীর্ঘ সাসপেনশন ট্রাভেল এবং আরামদায়ক রাইডিং পজিশনের মতো সুবিধা থাকে। ফলে শহরের রাস্তার পাশাপাশি দূরপাল্লার ভ্রমণেও এগুলো বেশ কার্যকর।
এদিকে Royal Enfield নতুন Himalayan 750 নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর ইতালির EICMA মোটরসাইকেল প্রদর্শনীতে বাইকটির বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশের কথা রয়েছে। তবে বড় ইঞ্জিন ও প্রিমিয়াম অবস্থানের কারণে এটি সবার বাজেটের মধ্যে নাও থাকতে পারে।
যাঁরা তুলনামূলক সাশ্রয়ী বা মাঝারি বাজেটে অ্যাডভেঞ্চার বাইক খুঁজছেন, তাঁদের জন্য Hero, Suzuki, Royal Enfield, Kawasaki ও KTM-এর পাঁচটি মডেল বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
১. Hero Xpulse 210: নতুনদের জন্য অ্যাডভেঞ্চার রাইডিং
অফ-রোড রাইডিং শেখার আগ্রহ থাকলে Hero Xpulse 210 একটি আকর্ষণীয় বিকল্প। তুলনামূলক কম ওজন এবং ব্যবহারবান্ধব ইঞ্জিনের কারণে ভাঙাচোরা রাস্তা কিংবা হালকা অফ-রোড পথে বাইকটি চালানো সহজ হতে পারে।
এতে রয়েছে ২১০ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ২৪.৬ PS শক্তি উৎপাদন করে। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী বাইকটির ওজন ১৬৮ থেকে ১৭০ কেজির মধ্যে।
ছয় গতির গিয়ারবক্স থাকায় শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি হাইওয়েতেও ব্যবহার করা যাবে। যারা প্রথমবার অ্যাডভেঞ্চার বাইক কিনতে চান, তাঁদের জন্য এটি বিবেচনার মতো একটি মডেল।
ভারতে দাম: ১.৬৮ লাখ থেকে ১.৭৭ লাখ রুপি (এক্স-শোরুম, দিল্লি)।
২. Suzuki V-Strom SX 250: আরামদায়ক ও মসৃণ রাইডের জন্য
Suzuki V-Strom SX 250 মূলত এমন রাইডারদের জন্য, যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার বাইকের লুকের পাশাপাশি মসৃণ ইঞ্জিন পারফরম্যান্স ও দীর্ঘ ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্য চান।
বাইকটিতে রয়েছে ২৪৯ সিসির অয়েল-কুলড ইঞ্জিন। এটি ৯,৩০০ rpm-এ সর্বোচ্চ ২৬.৫ PS শক্তি এবং ৭,৩০০ rpm-এ ২২.২ Nm টর্ক উৎপাদন করে।
এর সাসপেনশন সেটআপ ও কর্নারিং পারফরম্যান্স বাইকটির অন্যতম আকর্ষণ। তবে ডিজাইন কিছুটা পুরোনো মনে হতে পারে। যারা নির্ভরযোগ্যতা ও পরিমিত পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের জন্য এটি বিবেচনায় থাকতে পারে।
ভারতে দাম: প্রায় ২.০৫ লাখ রুপি (এক্স-শোরুম, দিল্লি)।
৩. Royal Enfield Himalayan 440 ও 450: ট্যুরিংপ্রেমীদের জন্য দুই বিকল্প
অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিংয়ের কথা উঠলে Royal Enfield Himalayan-এর নাম আসবেই। এই সিরিজে ৪৪০ ও ৪৫০ সংস্করণের মধ্যে ইঞ্জিন, শক্তি এবং প্রযুক্তিগত সুবিধায় পার্থক্য রয়েছে।
Himalayan 440-তে রয়েছে ৪৪৩ সিসির এয়ার-কুলড, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এটি ৬,২৫০ rpm-এ ২৫.৭ PS শক্তি এবং ৪,০০০ rpm-এ ৩৪ Nm টর্ক উৎপাদন করে। সঙ্গে রয়েছে ছয় গতির গিয়ারবক্স।
অন্যদিকে Himalayan 450-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫২ সিসির লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন। এটি সর্বোচ্চ ৪০ PS শক্তি ও ৪০ Nm টর্ক উৎপাদন করে।
Himalayan 450-তে রয়েছে রাইড-বাই-ওয়্যার থ্রটল, অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ এবং Performance ও Eco রাইডিং মোড। দুই মডেলেই সামনে ২০০ মিলিমিটার সাসপেনশন ট্রাভেল রয়েছে। পেছনে Himalayan 440-তে ১৮০ মিলিমিটার এবং 450-তে ২০০ মিলিমিটার ট্রাভেল পাওয়া যায়।
ভারতে দাম:
-
Himalayan 440: প্রায় ২.২৯ লাখ রুপি
-
Himalayan 450: ৩.০৮ লাখ থেকে ৩.৪০ লাখ রুপি
৪. Kawasaki Versys-X 300: দুই সিলিন্ডারের ইঞ্জিনে অ্যাডভেঞ্চার
Kawasaki Versys-X 300 এমন রাইডারদের জন্য, যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার বাইকের সঙ্গে শক্তিশালী ইঞ্জিন ও মসৃণ পারফরম্যান্স চান।
এতে রয়েছে ২৯৬ সিসির লিকুইড-কুলড, প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন। একই ধরনের ইঞ্জিন Kawasaki Ninja 300-তেও ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১১,৫০০ rpm-এ সর্বোচ্চ ৪০ PS শক্তি এবং ১০,০০০ rpm-এ ২৬ Nm টর্ক উৎপাদন করে।
ছয় গতির গিয়ারবক্সের পাশাপাশি এতে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ রয়েছে। দুই সিলিন্ডারের ইঞ্জিন হওয়ায় উচ্চগতিতে মসৃণ পারফরম্যান্স প্রত্যাশীদের কাছে বাইকটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
ভারতে দাম: প্রায় ৩.৪৯ লাখ রুপি (এক্স-শোরুম, দিল্লি)।
৫. KTM 390 Adventure X: হাইওয়ে ট্যুরিংয়ে শক্তিশালী বিকল্প
দীর্ঘ দূরত্বে হাইওয়ে ভ্রমণ এবং শক্তিশালী ইঞ্জিনের অ্যাডভেঞ্চার বাইক পছন্দ হলে KTM 390 Adventure X বিবেচনা করা যেতে পারে।
বাইকটিতে রয়েছে ৩৯৮.৬৩ সিসির লিকুইড-কুলড, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এটি ৮,৫০০ rpm-এ ৪৬ PS শক্তি এবং ৬,৫০০ rpm-এ ৩৯ Nm টর্ক উৎপাদন করে।
ছয় গতির গিয়ারবক্সের সঙ্গে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ রয়েছে। শক্তিশালী ইঞ্জিনের কারণে হাইওয়েতে দ্রুতগতির ভ্রমণের জন্য বাইকটি উপযোগী হতে পারে।
ভারতে দাম: প্রায় ৩.৫১ লাখ রুপি (এক্স-শোরুম, দিল্লি)।
বাংলাদেশের ক্রেতারা কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন?
বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার বাইক কেনার আগে শুধু ইঞ্জিনের ক্ষমতা বা ডিজাইন দেখলেই হবে না। কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে যাচাই করা জরুরি।
-
বাজারে বৈধ প্রাপ্যতা: বাইকটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হচ্ছে কি না।
-
ইঞ্জিনের সিসি: বাংলাদেশের প্রচলিত নিবন্ধন ও ইঞ্জিন সক্ষমতাসংক্রান্ত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না।
-
সার্ভিস ও যন্ত্রাংশ: স্থানীয়ভাবে সার্ভিস সেন্টার এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় কি না।
-
রাইডিংয়ের ধরন: শহরে চলাচল, হাইওয়ে ট্যুরিং নাকি অফ-রোড ব্যবহারের জন্য বাইকটি কিনছেন।
-
মোট খরচ: শোরুম মূল্য ছাড়াও নিবন্ধন, বীমা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ হিসাব করা উচিত।
সব মিলিয়ে, নতুন রাইডারদের জন্য Hero Xpulse 210, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য Suzuki V-Strom SX 250 এবং শক্তিশালী হাইওয়ে ট্যুরিংয়ের জন্য KTM 390 Adventure X আলাদা করে নজরে আসতে পারে। তবে বাংলাদেশের বাজারে কোন মডেল পাওয়া যাবে এবং কত দামে বিক্রি হবে, তা স্থানীয় ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আশা/
