Xiaomi 17T নাকি Galaxy S26 FE, ৩০ হাজার টাকা বাঁচবে কোনটিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মার্টফোন কেনার সময় ভালো ক্যামেরা, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ ও সফটওয়্যার আপডেটের নিশ্চয়তা চান অনেকেই। এই তিন দিক বিবেচনায় Xiaomi 17T ও Samsung Galaxy S26 FE হতে পারে আলোচনার দুটি ফোন। একদিকে Xiaomi 17T-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ ক্যামেরা, ১২ জিবি র্যাম ও ৬,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি। অন্যদিকে Samsung Galaxy S26 FE-তে পাওয়া যাবে সাত বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি, ওয়্যারলেস চার্জিং এবং উন্নত সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশের বাজারে দুই ফোনের দামের ব্যবধানও বেশ উল্লেখযোগ্য। তাই কোন ফোনে টাকা খরচ করলে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে, তা জানতে দেখে নেওয়া যাক গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো।
বাংলাদেশে Xiaomi 17T ও Galaxy S26 FE-এর দাম কত?
বাংলাদেশে Xiaomi 17T-এর ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের তালিকাভুক্ত দাম ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। Xiaomi বাংলাদেশের ওয়েবসাইটেও এই দাম দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে Samsung Galaxy S26 FE-এর ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের অফিসিয়াল দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।
অর্থাৎ অফিসিয়াল তালিকাভুক্ত দামের হিসাবে Xiaomi 17T কিনলে Galaxy S26 FE-এর তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে। তবে দোকান, অফার ও ভ্যাটের কারণে চূড়ান্ত দাম পরিবর্তিত হতে পারে। অনানুষ্ঠানিক বাজারে দুই ফোনের দাম আরও কম পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
ক্যামেরায় এগিয়ে Xiaomi 17T
ছবি তোলা এবং দূরের কোনো বিষয় জুম করে দেখার ক্ষেত্রে Xiaomi 17T বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৫০ মেগাপিক্সেলের ৫x অপটিক্যাল জুম পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা এবং ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা।
অন্যদিকে Galaxy S26 FE-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৮ মেগাপিক্সেলের ৩x অপটিক্যাল জুম টেলিফটো ক্যামেরা এবং ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা।
এখানে Xiaomi-এর ৫x পেরিস্কোপ ক্যামেরা দূরের বিষয় তুলনামূলক বেশি জুম করে ছবি তোলার সুযোগ দেবে। কনসার্ট, খেলাধুলা কিংবা দূরের কোনো দৃশ্য ধারণ করতে যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই ক্যামেরা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ছবির চূড়ান্ত মান শুধু মেগাপিক্সেল বা জুমের ওপর নির্ভর করে না। সেন্সর, সফটওয়্যার প্রসেসিং ও আলোর পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি ও চার্জিংয়ে বড় ব্যবধান
ব্যাটারির সক্ষমতায় Xiaomi 17T স্পষ্টভাবে এগিয়ে। এতে রয়েছে ৬,৫০০ এমএএইচ সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। বিপরীতে Galaxy S26 FE-তে দেওয়া হয়েছে ৪,৯০০ এমএএইচ ব্যাটারি।
অর্থাৎ কাগজে-কলমে Xiaomi 17T-এর ব্যাটারির ধারণক্ষমতা Samsung-এর তুলনায় ১,৬০০ এমএএইচ বেশি। ফলে সাধারণ ব্যবহারে দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখার সম্ভাবনা Xiaomi ফোনটিতে বেশি।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও Xiaomi 17T-তে রয়েছে ৬৭ ওয়াটের ওয়্যার্ড ফাস্ট চার্জিং। Samsung Galaxy S26 FE সমর্থন করে ৪৫ ওয়াটের ওয়্যার্ড চার্জিং এবং ১৫ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং। পাশাপাশি Xiaomi ফোনে ২২.৫ ওয়াট রিভার্স ওয়্যার্ড চার্জিং সুবিধা রয়েছে।
যারা বড় ব্যাটারি ও দ্রুত তারযুক্ত চার্জিং চান, তাদের জন্য Xiaomi 17T আকর্ষণীয়। তবে ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা চাইলে Samsung এগিয়ে থাকবে।
পারফরম্যান্সে কোন ফোন এগিয়ে?
Xiaomi 17T-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি MediaTek Dimensity 8500-Ultra প্রসেসর। এর সঙ্গে রয়েছে ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি বা ৫১২ জিবি স্টোরেজের বিকল্প।
অন্যদিকে Samsung Galaxy S26 FE-তে রয়েছে ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির Exynos 2500 প্রসেসর। ফোনটিতে ৮ জিবি র্যাম এবং ১২৮ জিবি, ২৫৬ জিবি বা ৫১২ জিবি স্টোরেজের সংস্করণ পাওয়া যায়।
প্রসেসরের ন্যানোমিটার সংখ্যা বা র্যামের পরিমাণ দেখেই কোনো ফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবে বিচার করা যায় না। গেমিং, তাপ নিয়ন্ত্রণ, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেশি র্যামের কারণে একসঙ্গে অনেক অ্যাপ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে Xiaomi 17T বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
ডিসপ্লে ও ডিজাইনে কেমন পার্থক্য?
Xiaomi 17T-তে রয়েছে ৬.৫৯ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। নির্মাতার দাবি অনুযায়ী, এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩,৫০০ নিট।
অন্যদিকে Galaxy S26 FE-তে রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির Dynamic AMOLED 2X ডিসপ্লে। এটিতেও ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। Samsung-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১,৯০০ নিট।
ওজনের দিক থেকে Samsung কিছুটা হালকা। Galaxy S26 FE-এর ওজন ১৯৩ গ্রাম, আর Xiaomi 17T-এর ওজন ২০০ গ্রাম। দুই ফোনেই IP68 রেটিং থাকায় ধুলাবালি ও পানির বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে IP68 থাকলেও ফোন পানিতে ব্যবহার করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে রাখা উচিত নয়।
সফটওয়্যার আপডেটে Samsung-এর বড় সুবিধা
দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহার করতে চাইলে সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। Samsung Galaxy S26 FE-তে সাত প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড আপগ্রেড এবং সাত বছর পর্যন্ত নিরাপত্তা আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ফোনটি Android 17 ও One UI 9 দিয়ে এসেছে। অন্যদিকে Xiaomi 17T বাজারে এসেছে Android 16 ও HyperOS 3 নিয়ে। তবে এই তুলনায় Xiaomi-এর নির্দিষ্ট সফটওয়্যার আপডেটের মেয়াদ Samsung-এর মতো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
যারা চার-পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় একই ফোন ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য Samsung-এর দীর্ঘমেয়াদি আপডেট নীতি বড় সুবিধা হতে পারে।
তাহলে বাংলাদেশে কোন ফোনটি কিনবেন?
দুই ফোনের মধ্যে কোনটি ভালো, তা নির্ভর করবে আপনার ব্যবহারের ধরন ও বাজেটের ওপর।
যদি কম দামে বেশি র্যাম, বড় ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং এবং ৫x পেরিস্কোপ ক্যামেরা চান, তাহলে Xiaomi 17T বেশি সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত দামের ব্যবধান বিবেচনায় ফোনটি অর্থের সঠিক ব্যবহার হতে পারে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন সফটওয়্যার আপডেট, ওয়্যারলেস চার্জিং, তুলনামূলক হালকা ডিজাইন এবং Samsung-এর সফটওয়্যার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিলে Galaxy S26 FE বেছে নিতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ক্যামেরার জুম, ব্যাটারি ও দামের হিসাবে Xiaomi 17T এগিয়ে। আর দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট ও ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে Samsung Galaxy S26 FE ভালো বিকল্প। কেনার আগে অবশ্যই নির্দিষ্ট স্টোরেজ সংস্করণ, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং সর্বশেষ বিক্রয়মূল্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
আশা/
