নামজারির আবেদন পেন্ডিং? অগ্রগতি জানবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির নামজারির আবেদন করার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও স্ট্যাটাসে পরিবর্তন না এলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। আবেদনটি কোন দপ্তরে রয়েছে, শুনানির তারিখ নির্ধারণ হয়েছে কি না কিংবা কোনো কাগজপত্রের ঘাটতি আছে কি না—এসব জানতে বারবার ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি ই-নামজারি পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনেই আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া আবেদন নম্বর ব্যবহার করে আবেদন ট্র্যাক করা যায়। তবে আবেদন পেন্ডিং থাকার কারণ একেক ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তাই প্রথমে অনলাইনে সর্বশেষ অবস্থা দেখে এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নামজারির আবেদন পেন্ডিং আছে কি না দেখবেন যেভাবে
নামজারির আবেদনের অগ্রগতি জানতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি পোর্টাল খুলুন:
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন ট্র্যাকিং অপশন খুঁজুন
ওয়েবসাইটে ‘আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখুন’ বা আবেদন ট্র্যাকিং-সংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করুন। পোর্টালে দেখানো নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।
তৃতীয় ধাপ: আবেদন নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিন
আবেদনের সময় পাওয়া ট্র্যাকিং বা আবেদন নম্বরটি ব্যবহার করুন। সিস্টেম যে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চাইবে, যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, তা নির্ভুলভাবে দিন।
চতুর্থ ধাপ: সর্বশেষ স্ট্যাটাস দেখুন
আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, শুনানির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং আবেদন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর হয়েছে কি না—পোর্টালে উপলভ্য তথ্য দেখে বুঝতে পারবেন। সব আবেদনের ক্ষেত্রে একই ধরনের তথ্য একসঙ্গে দেখা নাও যেতে পারে।
নামজারির আবেদন পেন্ডিং থাকার সম্ভাব্য কারণ
নামজারির আবেদন জমা দেওয়ার পর কয়েকটি ধাপে যাচাই ও সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া চলে। সরকারি নির্দেশিকায় বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে পাঠানো হতে পারে এবং জমির তথ্য ও কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদন পেন্ডিং থাকার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
তদন্ত প্রতিবেদন বাকি: সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের যাচাই বা প্রতিবেদন এখনও সম্পন্ন হয়নি।
-
শুনানির অপেক্ষা: শুনানির তারিখ নির্ধারণ বা শুনানি সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা চলছে।
-
কাগজপত্র যাচাই: দলিল, খতিয়ান বা মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা হচ্ছে।
-
সিদ্ধান্তের অপেক্ষা: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নথি ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।
-
অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন: আবেদনসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা নথি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে।
এগুলো সম্ভাব্য কারণ। আপনার আবেদন কেন পেন্ডিং রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের বক্তব্য যাচাই করুন।
কত দিনে নামজারির আবেদন নিষ্পত্তি হয়?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণভাবে একটি নামজারি আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া প্রায় ২৮ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে আবেদনভেদে যাচাই, শুনানি, নথির ঘাটতি বা অন্য জটিলতার কারণে সময় বেশি লাগতে পারে।
এখানে মনে রাখা জরুরি, ২৮ দিনকে প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে নিশ্চিত নিষ্পত্তির তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আপনার আবেদন দীর্ঘদিন পেন্ডিং থাকলে প্রথমে অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখুন। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসে আবেদন নম্বর উল্লেখ করে অগ্রগতি জানতে চান।
শুনানির তারিখ নির্ধারণ হলে কী করবেন?
আবেদনের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শুনানির তারিখ নির্ধারিত হতে পারে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুনানির তথ্য আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমেও জানানো হতে পারে।
তাই আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর সচল রাখুন এবং নিয়মিত মেসেজ দেখুন। শুনানির তারিখ জানানো হলে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। তারিখ বা শুনানির পদ্ধতি সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকলে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
আবেদন নম্বর হারিয়ে গেলে কী করবেন?
আবেদন নম্বর না পেলে প্রথমে আবেদন জমা দেওয়ার সময় পাওয়া এসএমএস, আবেদনপত্রের কপি বা পেমেন্টের রসিদ দেখুন। এসব নথিতে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে।
সেখানেও নম্বর না পেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অথবা ভূমিসেবা হেল্পলাইন ১৬১২২-এ যোগাযোগ করে সহায়তা চাইতে পারেন। যোগাযোগের সময় জমির মৌজা, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর তথ্য এবং আবেদন জমা দেওয়ার আনুমানিক তারিখ প্রস্তুত রাখলে সুবিধা হতে পারে।
নামজারি মঞ্জুর হলে এরপর কী করবেন?
আবেদন মঞ্জুর হওয়া এবং চূড়ান্ত নামজারি খতিয়ান হাতে পাওয়া একই ধাপ নয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। খতিয়ান প্রস্তুত হলে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মোবাইলে এসএমএস আসতে পারে।
নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ডিসিআর ফি পরিশোধের পর অনলাইন পোর্টাল থেকে নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর-এর কপি সংগ্রহ করা যায়। ফি পরিশোধের আগে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা ও টাকার পরিমাণ যাচাই করে নিন।
পেন্ডিং আবেদন নিয়ে শেষ কথা
নামজারির আবেদন পেন্ডিং থাকলে প্রথমেই সরকারি ই-নামজারি পোর্টালে আবেদন ট্র্যাকিং করে সর্বশেষ অবস্থা দেখুন। শুনানির তারিখ, তদন্ত প্রতিবেদন বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা থাকলে সেটি অনুসরণ করুন। দীর্ঘদিন স্ট্যাটাস অপরিবর্তিত থাকলে আবেদন নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।
জমির মালিকানা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা মধ্যস্থতাকারীর কথার ওপর নির্ভর না করে সরকারি পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে তথ্য নিশ্চিত করাই নিরাপদ।
সোহাগ/
