iQOO Neo 12 লঞ্চ, দাম ও স্পেসিফিকেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মার্টফোনে গেমিং ও পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেন, এমন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফোন নিয়ে এসেছে iQOO। চীনে লঞ্চ হয়েছে iQOO Neo 12, যেখানে রয়েছে Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর, ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেটের 2K ডিসপ্লে এবং বিশাল ৯,০০০mAh ব্যাটারি। এর সঙ্গে থাকছে ১০০W ফাস্ট চার্জিং ও গেমিংয়ের জন্য বিশেষ কুলিং ব্যবস্থা।
তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফোনটির বাংলাদেশে লঞ্চের তারিখ বা দাম এখনও নিশ্চিত নয়। আপাতত চীনের বাজারে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই ফোনটির ফিচার ও দাম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
iQOO Neo 12-এর দাম কত?
iQOO Neo 12 চীনে একাধিক RAM ও স্টোরেজ সংস্করণে এসেছে। সংস্থার চীনা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রারম্ভিক খুচরা দামের তালিকা অনুযায়ী, দাম শুরু হচ্ছে ৪,৩৯৯ ইউয়ান থেকে।
| RAM ও স্টোরেজ | চীনে দাম |
|---|---|
| ১২GB RAM + ২৫৬GB | ৪,৩৯৯ ইউয়ান |
| ১৬GB RAM + ২৫৬GB | ৪,৭৯৯ ইউয়ান |
| ১২GB RAM + ৫১২GB | ৫,০৯৯ ইউয়ান |
| ১৬GB RAM + ৫১২GB | ৫,৪৯৯ ইউয়ান |
| ১৬GB RAM + ১TB | ৬,৪৯৯ ইউয়ান |
ফোনটি Contender, Frost Blade Blue ও Shadow Black—এই তিনটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রচারমূলক ছাড় বা বিক্রয় অফারের কারণে কার্যকর দাম তালিকাভুক্ত দামের চেয়ে কম হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, চীনের দাম সরাসরি বাংলাদেশের বাজারদর নয়। বাংলাদেশে ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এলে আমদানি খরচ, কর, পরিবেশক ও বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণের কারণে দাম আলাদা হতে পারে।
iQOO Neo 12-এর ডিসপ্লে কেমন?
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন 2K এবং রিফ্রেশ রেট সর্বোচ্চ ১৮৫Hz। সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ২,২০০ নিট পর্যন্ত হতে পারে। উচ্চ রিফ্রেশ রেটের কারণে সমর্থিত গেমে দ্রুত গতির দৃশ্য ও স্ক্রলিং আরও মসৃণ দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে p-TSF ডিসপ্লে প্রযুক্তি এবং ডিসপ্লে পরিচালনার জন্য বিশেষ চিপও রয়েছে। ফলে ফোনটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো উচ্চ রেজোলিউশন ও দ্রুত রিফ্রেশ রেটের সমন্বয়।
Snapdragon প্রসেসর ও বিশেষ গেমিং চিপ
iQOO Neo 12-এ ব্যবহার করা হয়েছে Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর। এর সঙ্গে রয়েছে সংস্থার নিজস্ব Q3 গেমিং চিপ, যা সমর্থিত গেমে গ্রাফিক্স উন্নত করা, রে ট্রেসিং এবং রেজোলিউশন আপস্কেলিংয়ের মতো সুবিধা দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় অতিরিক্ত তাপ কমাতে ফোনটিতে সক্রিয় কুলিং ফ্যান এবং 3D Ice Dome ভেপার চেম্বার দেওয়া হয়েছে বলে নির্মাতার তথ্য ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কুলিং ব্যবস্থা ভারী গেমিংয়ের সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, যদিও বাস্তব পারফরম্যান্স গেম ও ব্যবহারের পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে।
৯,০০০mAh ব্যাটারি, ১০০W ফাস্ট চার্জিং
iQOO Neo 12-এর বড় আকর্ষণ এর ৯,০০০mAh ব্যাটারি। সঙ্গে রয়েছে ১০০W তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং। সাধারণ ব্যবহারের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভিডিও দেখার জন্য বড় ব্যাটারিটি সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে, তা নির্ভর করবে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, রিফ্রেশ রেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ব্যবহৃত অ্যাপের ওপর। তাই শুধু ব্যাটারির ক্ষমতা দেখে বাস্তব ব্যাকআপ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
iQOO Neo 12-এর ক্যামেরা
ফটোগ্রাফির জন্য ফোনটির পেছনে রয়েছে দুটি ক্যামেরা। প্রধান ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের Sony IMX921 সেন্সর, যাতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা OIS রয়েছে। এর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা।
সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। অর্থাৎ, ফোনটির মূল গুরুত্ব গেমিং ও পারফরম্যান্সে থাকলেও দৈনন্দিন ছবি তোলার জন্যও প্রয়োজনীয় ক্যামেরা সুবিধা রয়েছে।
আরও যেসব ফিচার থাকছে
iQOO Neo 12-এ রয়েছে OriginOS 7, ইন-ডিসপ্লে আলট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, স্টেরিও স্পিকার এবং ইনফ্রারেড সেন্সর। ফোনটির ওজন সংস্করণভেদে প্রায় ২২৫ থেকে ২২৯ গ্রাম। ধুলো ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য এতে IP69 রেটিংয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে iQOO Neo 12 আসবে কি?
এখনও বাংলাদেশে iQOO Neo 12-এর আনুষ্ঠানিক লঞ্চ, বিক্রির তারিখ কিংবা দাম ঘোষণা করা হয়নি। ভারতে ফোনটি বাজারে আসবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে বাংলাদেশের ক্রেতাদের আপাতত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ১৮৫Hz ডিসপ্লে, শক্তিশালী Snapdragon প্রসেসর, সক্রিয় কুলিং ব্যবস্থা এবং ৯,০০০mAh ব্যাটারির কারণে iQOO Neo 12 গেমিংপ্রেমীদের জন্য আগ্রহের একটি ফোন হতে পারে। তবে কেনার আগে স্থানীয় দাম, ওয়ারেন্টি, সফটওয়্যার আপডেট এবং বাস্তব পারফরম্যান্স সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
আশা/
