| ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন পে-স্কেলের বেতন দিতে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৬:৪০:০৬
নতুন পে-স্কেলের বেতন দিতে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতির মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলাম সূচি অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে অক্টোবরের ২৭ তারিখ পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল সরকার। নতুন নিলামে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ পাওয়া গেলে চলতি মাসে মোট ঋণ উত্তোলন দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বেতন বৃদ্ধির বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। সেই চাহিদা মেটাতেই স্বল্পমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বর্ধিত মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে কর্মচারীদের বকেয়া ও বর্ধিত বেতনের পরিমাণ পদ, গ্রেড এবং আগের মূল বেতনের ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা।

তবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে মোট কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, আর আগের ঋণ পরিশোধের পর সরকারের নিট ঋণ কত—দুটি হিসাব এক নয়। নতুন করে ঋণ নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশ আগের বিল ও বন্ডের মেয়াদ শেষ হলে সেগুলোর দায় পরিশোধ বা পুনঃঅর্থায়নে ব্যবহার করা হয়।

তাই অক্টোবর মাসে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ উত্তোলনের সম্ভাব্য হিসাবকে সরকারের নিট ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

সরকার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। কিন্তু রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে সাময়িক ব্যবধান তৈরি হলে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিল ব্যবহার করা হতে পারে।

এই ধরনের বিলের মেয়াদ কম হওয়ায় সরকার স্বল্প সময়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে ঋণ পরিশোধের প্রয়োজন থাকে। ফলে ঘন ঘন স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার চাপও বাড়তে পারে।

সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে ট্রেজারি বিলের সুদহারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইল্ড ৫ অক্টোবরের ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ অক্টোবর ৮ দশমিক ৫৫৮১ শতাংশে দাঁড়ায়।

সুদহার বাড়লে নতুন ঋণ সংগ্রহের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট নিলামের সুদহারের ওপর।

সরকারের আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে নিয়মিত ব্যয় মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন বাড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতিকে সরকারের বাড়তি ঋণ নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার শরিয়াহভিত্তিক সুকুক ইস্যুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে এসব বিকল্প অর্থায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না; বিভিন্ন পর্যায়ে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার পেনশনভোগী রয়েছেন। তাঁদের বেতন, ভাতা ও পেনশনের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে প্রাক্কলন রয়েছে। ফলে বাড়তি বেতন-ভাতার ব্যয় সামলাতে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ঋণের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয়, উন্নয়ন ব্যয় এবং পুরোনো ঋণের দায়ও মেটাতে হয়। রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম থাকলে এসব ব্যয় নির্বাহে ব্যাংকঋণের প্রয়োজন বাড়তে পারে।

তবে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া মানেই পুরো অর্থ নতুন ব্যয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে, এমন নয়। আগের ঋণ পরিশোধ ও পুনঃঅর্থায়নের হিসাবও মোট ঋণ উত্তোলনের মধ্যে থাকে।

সব মিলিয়ে, নতুন পে-স্কেলের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতির মধ্যে সরকার ব্যাংক খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। নিলামে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ পাওয়া গেলে অক্টোবর মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে মোট ঋণ উত্তোলন ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। এখন নজর থাকবে রাজস্ব আদায়, ঋণের সুদহার এবং সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা কতটা চাপ সামলাতে পারে তার ওপর।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সরাসরি নাকচ করে ...

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এই ট্রফি জেতা মানে শুধু মাঠের ...