ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয়, টানা বৃষ্টি চলবে কতদিন
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একটি বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর রাত থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এতে মেঘলা আবহাওয়া, তাপমাত্রা কমে আসা এবং কোথাও কোথাও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব এলাকায় সমানভাবে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাদের পূর্বাভাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। তবে এটি ওই পর্যবেক্ষণ দলের পূর্বাভাস; বৃষ্টির পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে সর্বশেষ সরকারি তথ্যের জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা জরুরি।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কি বাংলাদেশে পড়বে?
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব আর দেশজুড়ে বৃষ্টিবলয়ের পূর্বাভাস এক বিষয় নয়।
ইউরোপীয় আবহাওয়া মডেল ECMWF-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, বৃষ্টির সময় দেশের অনেক এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। ফলে রোদের তীব্রতা ও গরম কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কোন বিভাগে কতটা বৃষ্টি হতে পারে?
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের দেওয়া সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
-
রংপুর বিভাগ: প্রায় ৫০–৮০ মিলিমিটার
-
রাজশাহী বিভাগ: প্রায় ৪০–৬০ মিলিমিটার
-
খুলনা বিভাগ: প্রায় ৪০–৫৫ মিলিমিটার
-
ঢাকা বিভাগ: প্রায় ৩০–৫০ মিলিমিটার
-
বরিশাল বিভাগ: প্রায় ৩০–৪৫ মিলিমিটার
-
ময়মনসিংহ বিভাগ: প্রায় ৩০–৪০ মিলিমিটার
-
চট্টগ্রাম বিভাগ: প্রায় ২০–৩৫ মিলিমিটার
-
সিলেট বিভাগ: প্রায় ২০–৩০ মিলিমিটার
এগুলো পর্যবেক্ষণ দলের দেওয়া সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের হিসাব। বাস্তবে বৃষ্টির পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে এবং একই বিভাগের সব জেলায় সমান বৃষ্টি নাও হতে পারে।
যেসব জেলায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রকাশিত জেলাভিত্তিক পূর্বাভাসে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি এলাকায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
রংপুর বিভাগের মধ্যে গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ে প্রায় ৮০ মিলিমিটার এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৭৫ মিলিমিটার এবং জয়পুরহাটে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টির হিসাব দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা দক্ষিণে প্রায় ৭০ মিলিমিটার এবং চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে প্রায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগে ঢাকা ও গাজীপুরে প্রায় ৪০ মিলিমিটার এবং গোপালগঞ্জে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির হিসাব দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ২০ থেকে ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বদলে যেতে পারে।
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় কী সতর্কতা নেবেন?
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত বা দমকা হাওয়া দেখা দিলে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের পাশে থাকা এবং বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া এড়িয়ে চলুন। ঝোড়ো হাওয়ার সময় দুর্বল গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে থাকুন।
বাইরে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে নেওয়া ভালো। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও নৌযান পরিচালনাকারীদের সরকারি আবহাওয়া সতর্কতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
২ নভেম্বর পর্যন্ত কি বৃষ্টি চলবে?
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের পূর্বাভাসে ২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে সব এলাকায় প্রতিদিন বৃষ্টি হবে, এমন নয়। কোথাও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোনো এলাকায় বৃষ্টির বিরতি থাকতে পারে।
মনে রাখবেন: এই সময়সীমা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ একটি বেসরকারি পর্যবেক্ষণ দলের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই বৃষ্টি, বজ্রপাত বা ঘূর্ণিঝড়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সরকারি বুলেটিন যাচাই করুন।
সোহাগ/
