‘নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ’
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট। ভোটাররা নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তেল আবিবে নিজের দল ইয়াশারের সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আইজেনকোট এসব কথা বলেন।
আইজেনকোট বলেন, ইসরায়েলের জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকে ভোট দিয়েছেন। জনগণের এই রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সরকার গঠন করাই তাঁর লক্ষ্য।
নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করা উচিত নয়। দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান, যেন তাঁরা রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।
নির্বাচনের পর বিরোধী শিবিরের দাবি জোরালো হলেও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক এক্সিট পোল বা ভোট-পরবর্তী জরিপে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট এবং আইজেনকোটের বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সিট পোলে নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা কাছাকাছি দেখা গেছে। কিছু জরিপে দুই পক্ষই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্য জরিপে আসনসংখ্যায় সামান্য ব্যবধান দেখা গেছে।
ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে কয়েকটি জরিপে অনুমান করা হয়েছে। সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এক্সিট পোল চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়। ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পরই আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
বক্তব্যে আইজেনকোট নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাঁদের দায়িত্ব দেশের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা, কোনো রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থ নয়।
রাজনৈতিক চাপের মুখেও দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত হবে না। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনের পর ক্ষমতার পালাবদল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ইসরায়েলের এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭.৭ শতাংশ। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
উচ্চ ভোটার উপস্থিতি এবং দুই প্রধান জোটের কাছাকাছি অবস্থান নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এখন চূড়ান্ত ফলাফল, জোট গঠনের আলোচনা এবং সম্ভাব্য সরকার গঠনের উদ্যোগের ওপর নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইজেনকোট নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের অবসান দাবি করলেও নির্বাচনের ফল এখনো তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায়ের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করেনি। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং নতুন সরকার গঠনের সমীকরণই ঠিক করবে ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
সোহাগ/
