গরমের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের
গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী গ্রীষ্মের আগেই দেশে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবাসিক ভবন ও শিল্পকারখানার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন ও শিল্পকারখানার ছাদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যুতের প্রচলিত উৎসের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কতগুলো স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হবে, প্রকল্পগুলোর কাজ কখন শেষ হবে এবং উৎপাদন কীভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা জানা প্রয়োজন।
সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও প্রযুক্তির প্রসারে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’ আয়োজনের কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক্সপোটি উদ্বোধন করবেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি, ছাদভিত্তিক সোলার ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরা হতে পারে।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, আলজেরিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির উৎস সংগ্রহ সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে নতুন সোলার স্থাপনা নির্মাণ, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কার্যকর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সময়সূচি, অর্থায়ন এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগের বিষয়গুলোও লক্ষ্য পূরণে প্রভাব ফেলবে।
সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির অবদান বাড়তে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটা সক্ষমতা যুক্ত হবে, তা প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
সোহাগ/
