৯ম পে স্কেলে অক্টোবরের বেতন বিল ২৮ অক্টোবর থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের অক্টোবর মাসের বেতন বিল ২৮ অক্টোবর থেকে দাখিল করা হতে পারে বলে একটি সময়সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই থেকে আগের মাসগুলোর বকেয়া বেতন-ভাতা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এই সময়সূচি ও বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়ে নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার ক্ষেত্রে পে-ফিকেশন সম্পন্ন করা, বেতন নির্ধারণী যাচাই এবং iBAS++ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ২৮ অক্টোবর থেকে সব সরকারি দপ্তরে নতুন স্কেলে বেতন বিল দাখিল শুরু হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
২৮ অক্টোবর থেকে কি নতুন স্কেলে বেতন বিল জমা দেওয়া যাবে?
প্রচারিত সময়সূচিতে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি কার্যকর হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা, দপ্তরের প্রস্তুতি এবং বেতন নির্ধারণের অনুমোদনপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করার আগে পে-ফিকেশনের তথ্য সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদবি, কর্মস্থল, মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সিস্টেমে ঠিকভাবে রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই শুধু নির্ধারিত তারিখের অপেক্ষায় না থেকে নিজ নিজ দপ্তরের হিসাব শাখা বা সংশ্লিষ্ট ডিডিওর (Drawing and Disbursing Officer) সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।
পে-ফিকেশন সম্পন্ন হলেই কি বেতন বিল জমা দেওয়া যাবে?
পে-ফিকেশন সম্পন্ন হওয়া এবং বেতন বিল দাখিলের অনুমতি পাওয়া এক বিষয় নয়। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ শেষ হলেও বিল প্রস্তুত ও অনুমোদনের জন্য আরও কিছু ধাপ প্রয়োজন হতে পারে।
বেতন বিল দাখিলের আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন:
-
পে-ফিকেশনের তথ্য সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না।
-
নির্ধারিত মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্টের তথ্য ঠিক আছে কি না।
-
iBAS++ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ রয়েছে কি না।
-
বেতন নির্ধারণী অনুমোদন বা যাচাইয়ের কোনো ধাপ বাকি আছে কি না।
-
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিল প্রস্তুত ও দাখিলের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে কি না।
এসব তথ্যের কোনোটি অসম্পূর্ণ থাকলে বিল প্রস্তুত বা দাখিলের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট হিসাব শাখার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।
পে-ফিকেশন অনুমোদন না হলে কী করবেন?
যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে-ফিকেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি বা অনুমোদন বাকি রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখা কিংবা প্রশাসনিক শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
নাম, পদবি, চাকরিসংক্রান্ত তথ্য অথবা বেতন নির্ধারণীতে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে iBAS++ ব্যবস্থায় তথ্যের অসংগতি থাকলেও বেতন বিল প্রস্তুত করতে সমস্যা হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমস্যার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ডিডিও বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ত্রুটি শনাক্ত হলে সেটি সংশোধন না করে বারবার বিল দাখিলের চেষ্টা না করাই ভালো।
জুলাই থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা কি পাওয়া যাবে?
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে আগের মাসগুলোর প্রাপ্য বেতন-ভাতা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রচারিত একটি সময়সূচিতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং জুলাই থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া হিসাব ও পরিশোধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বকেয়া পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ, অর্থ ছাড়ের পদ্ধতি এবং কারা কত টাকা পাবেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়া নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ, প্রযোজ্য সময়কাল, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, প্রাপ্য ভাতা এবং আগে পরিশোধ করা অর্থের হিসাব বিবেচনায় আসতে পারে। ফলে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়ার পরিমাণ এক হবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
অক্টোবরের বেতন ও বকেয়া কি একসঙ্গে ব্যাংক হিসাবে আসবে?
অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিল শুরু হওয়া মানেই নিয়মিত বেতন এবং আগের মাসগুলোর বকেয়া একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পৃথক ধাপ রয়েছে:
১. বেতন বিল প্রস্তুত ও দাখিল।
২. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিল যাচাই ও অনুমোদন।
৩. অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া।
৪. ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা।
বকেয়া বেতন-ভাতার হিসাব নির্ধারণ ও সমন্বয়ের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। তবে নিয়মিত বেতন ও বকেয়া একই সঙ্গে দেওয়া হবে, নাকি পৃথকভাবে পরিশোধ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের এখন কী করা উচিত?
নতুন বেতন স্কেল নিয়ে কোনো সময়সূচি প্রচারিত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত, পে-ফিকেশন যাচাই করুন। নির্ধারিত মূল বেতন ও অন্যান্য তথ্য সঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
দ্বিতীয়ত, হিসাব শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। ২৮ অক্টোবর থেকে বিল দাখিলের বিষয়ে আপনার দপ্তরে কোনো নির্দেশনা এসেছে কি না, তা জেনে নিন।
তৃতীয়ত, iBAS++-এর তথ্য যাচাই করুন। কোনো ভুল বা অসম্পূর্ণতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা করুন।
চতুর্থত, বকেয়ার হিসাব সংরক্ষণ করুন। নিজের বেতন নির্ধারণী ও প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন, যাতে প্রয়োজন হলে হিসাব যাচাই করা যায়।
পঞ্চমত, আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সময়সূচির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।
৯ম পে স্কেল বা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল ২৮ অক্টোবর থেকে দাখিলের যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, তা সরকারি নির্দেশনা দিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে জুলাই থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের সময়সীমা ও পদ্ধতি সম্পর্কেও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা উচিত।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পে-ফিকেশন ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য সঠিক রাখা এবং নিজ নিজ দপ্তরের হিসাব শাখার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। এতে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সময় সম্ভাব্য জটিলতা কমাতে সহায়তা হতে পারে।
২৮ অক্টোবর থেকে নতুন স্কেলে বেতন বিল দাখিল এবং বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই না করে নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।
সোহাগ/
