| ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ভেজাল স্বর্ণ চেনার উপায়: গয়না কেনার আগে ৭টি বিষয় যাচাই করুন

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১১:৩১:০৯
ভেজাল স্বর্ণ চেনার উপায়: গয়না কেনার আগে ৭টি বিষয় যাচাই করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বর্ণের দাম কমলেও গয়না কিনতে ক্রেতাকে এখনো বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। তাই কেনার পর গয়নার বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। গয়নার রং, নকশা কিংবা চকচকে ভাব দেখে বোঝার উপায় নেই সেটি কতটা খাঁটি। এ জন্য স্বর্ণের ক্যারেট, হলমার্ক, পরীক্ষার সনদ, ক্যাশমেমো এবং বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় নেমে আসার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। তাই গয়না কেনার আগে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ নির্ধারিত দর জেনে নেওয়া উচিত।

স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কম দামের প্রলোভন, অনলাইন বিজ্ঞাপন কিংবা গয়নার গায়ে থাকা যাচাইহীন চিহ্ন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আসল স্বর্ণ চিনতে এবং প্রতারণা এড়াতে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন।

১. ক্যারেট দেখে বুঝুন স্বর্ণ কতটা খাঁটি

স্বর্ণের বিশুদ্ধতা বোঝানোর প্রচলিত মাপকাঠি হলো ক্যারেট। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণকে প্রায় বিশুদ্ধ স্বর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ তুলনামূলক নরম হওয়ায় গয়না তৈরির সময় এর সঙ্গে তামা, রুপা বা অন্য ধাতু মেশানো হতে পারে। এতে গয়না আরও শক্ত ও ব্যবহার উপযোগী হয়।

সাধারণভাবে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণে বিশুদ্ধতার পরিমাণ হলো—

- ২৪ ক্যারেট: প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধতা; সাধারণত ৯৯৯ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

- ২২ ক্যারেট: প্রায় ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ স্বর্ণ; বিশুদ্ধতার চিহ্ন ৯১৬।

- ২১ ক্যারেট: প্রায় ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ স্বর্ণ; বিশুদ্ধতার চিহ্ন ৮৭৫।

- ১৮ ক্যারেট: প্রায় ৭৫ শতাংশ স্বর্ণ; বিশুদ্ধতার চিহ্ন ৭৫০।

অর্থাৎ, ২২ ক্যারেটের গয়নায় বাকি অংশে অন্য ধাতু থাকতে পারে। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের গয়নায় প্রায় ২৫ শতাংশ অন্য ধাতু থাকে।

তবে গয়নার গায়ে ৯১৬, ৮৭৫ বা ৭৫০ লেখা থাকলেই সেটি নিশ্চিতভাবে ওই মানের স্বর্ণ—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চিহ্নের সত্যতা এবং গয়নার প্রকৃত বিশুদ্ধতা নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

২. হলমার্ক আছে কি না, যাচাই করুন

স্বর্ণের গয়না কেনার আগে হলমার্ক বা বিশুদ্ধতার শনাক্তকরণ চিহ্ন দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। হলমার্কের মাধ্যমে গয়নার স্বর্ণের মান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে চিহ্নটি কোন প্রতিষ্ঠান দিয়েছে, সেটি নির্ভরযোগ্য কি না এবং পরীক্ষার সনদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত।

গয়নার গায়ে থাকা সংখ্যা বা চিহ্ন দেখে একাই সিদ্ধান্ত নেবেন না। সম্ভব হলে বিক্রেতার কাছে হলমার্কের সনদ বা পরীক্ষার প্রমাণ দেখতে চান। প্রয়োজন হলে স্বীকৃত বা নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে গয়নার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করিয়ে নিন।

মনে রাখবেন, হলমার্কের উপস্থিতি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হলেও শুধু চিহ্ন দেখেই গয়নার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায় না।

৩. কম ক্যারেটের স্বর্ণ মানেই কি খারাপ?

কম ক্যারেটের স্বর্ণ মানেই নিম্নমানের বা ভেজাল স্বর্ণ—এ ধারণা সঠিক নয়। গয়নার ক্যারেট নির্ভর করে এতে কত শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ রয়েছে তার ওপর। কোন ক্যারেটের গয়না কিনবেন, তা নির্ভর করে আপনার বাজেট, ব্যবহার এবং পছন্দের ওপর।

বাংলাদেশের বাজারে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের গয়না পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের গয়না তৈরিতে ভিন্ন ক্যারেট ব্যবহার করা হতে পারে। তবে গয়নার নকশা বা ধরন দেখে এর প্রকৃত ক্যারেট নির্ধারণ করা যায় না।

কেনার আগে বিক্রেতাকে স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করুন, গয়নাটি কত ক্যারেটের এবং সেই মানের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে। ক্যাশমেমোতেও একই তথ্য লেখা আছে কি না, তা মিলিয়ে নিন।

৪. ক্যাশমেমো ছাড়া স্বর্ণ কিনবেন না

স্বর্ণের গয়না কেনার পর ক্যাশমেমো হারিয়ে ফেললে বা সংগ্রহ না করলে ভবিষ্যতে কেনাকাটার তথ্য প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। তাই গয়না কেনার সময় বিস্তারিত ক্যাশমেমো নেওয়া এবং সেটি যত্ন করে সংরক্ষণ করা জরুরি।

ক্যাশমেমোতে নিচের তথ্যগুলো আছে কি না, দেখে নিন—

- গয়নার মোট ওজন।

- স্বর্ণের ক্যারেট বা মান।

- স্বর্ণের প্রযোজ্য দাম।

- গয়না তৈরির মজুরি।

- ভ্যাট বা অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ।

- দোকানের নাম, ঠিকানা এবং লেনদেনের তারিখ।

গয়নার হলমার্ক বা পরীক্ষার সনদ দেওয়া হলে সেটিও সংরক্ষণ করুন। পুরোনো গয়না বিক্রি, বদলে নতুন গয়না কেনা কিংবা কোনো বিরোধ তৈরি হলে এসব নথি কাজে লাগতে পারে।

৫. অস্বাভাবিক কম দামে স্বর্ণ বিক্রির প্রলোভনে সতর্ক থাকুন

স্বর্ণের বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে গয়না বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। দাম কম হওয়ার কারণ না জেনে শুধু সাশ্রয়ের আশায় কেনাকাটা করলে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিক্রেতার কাছে জেনে নিন, গয়নাটি কত ক্যারেটের, দাম কীভাবে হিসাব করা হয়েছে এবং মজুরি ও অন্যান্য খরচ আলাদা করে কত ধরা হয়েছে। একই মানের গয়নার ক্ষেত্রে প্রচলিত বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করুন।

অনলাইনে স্বর্ণের গয়না কেনার ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিক্রেতার পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, ফেরত দেওয়ার নীতি, ক্যাশমেমো এবং বিশুদ্ধতার প্রমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে অগ্রিম অর্থ পাঠাবেন না। সম্ভব হলে সরাসরি গয়না দেখে ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে কেনাকাটা করুন।

৬. বিক্রেতা ও স্বর্ণ পরীক্ষার পদ্ধতি যাচাই করুন

বিশ্বস্ত ও পরিচিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে গয়না কেনা তুলনামূলক নিরাপদ সিদ্ধান্ত। কেনার আগে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে খোঁজ নিন এবং বিক্রেতা স্বর্ণের মান সম্পর্কে লিখিত তথ্য দিতে প্রস্তুত কি না, তা দেখুন।

কিছু ব্যবসায়ী স্বর্ণের বিশুদ্ধতা যাচাই করতে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করেন। তবে যন্ত্রের নাম শুনেই পরীক্ষার ফল নির্ভুল বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে, ফলাফলের প্রমাণ পাওয়া যাবে কি না এবং প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা করা সম্ভব কি না, তা জেনে নিন।

গয়নার মান নিয়ে সন্দেহ থাকলে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানোই ভালো। ঘরে প্রচলিত কিছু পরীক্ষা—যেমন চুম্বক দিয়ে পরীক্ষা, রং দেখে বিচার কিংবা কামড় দিয়ে যাচাই—স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। এসব পরীক্ষায় ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে, এমনকি গয়নাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৭. পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি বা বদলের আগে হিসাব বুঝে নিন

পুরোনো গয়না বিক্রি কিংবা সেটি দিয়ে নতুন গয়না তৈরির সময় কত টাকা বা কত শতাংশ বাদ দেওয়া হবে, তা আগে থেকেই পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া উচিত।

কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো গয়না বিক্রি বা বদলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে কর্তনের কথা বলা হয়। তবে কর্তনের হার লেনদেনের ধরন, প্রতিষ্ঠানের নীতি এবং প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট হার সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেবেন না।

লেনদেনের আগে লিখিতভাবে জেনে নিন—

- পুরোনো গয়নার ওজন কত ধরা হচ্ছে।

- স্বর্ণের মান বা ক্যারেট কীভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

- কত টাকা বা কত শতাংশ বাদ দেওয়া হবে।

- মজুরি ও অন্যান্য খরচ কত।

- নতুন গয়নার জন্য অতিরিক্ত কত টাকা দিতে হবে।

শুধু মুখের কথার ওপর নির্ভর না করে হিসাবটি ক্যাশমেমো বা লিখিত নথিতে রাখুন।

স্বর্ণ কেনার আগে এই চেকলিস্ট মিলিয়ে নিন

গয়না কেনার আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করলে প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য পেতে পারেন।

১. গয়নাটি কত ক্যারেটের, তা নিশ্চিত হয়েছেন কি?

২. হলমার্ক বা বিশুদ্ধতার চিহ্নের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেছেন কি?

৩. প্রয়োজন হলে পরীক্ষার সনদ বা নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে কি?

৪. স্বর্ণের দাম, ওজন, মজুরি ও অন্যান্য খরচ বুঝেছেন কি?

৫. ক্যাশমেমোতে গয়নার মান ও লেনদেনের বিবরণ লেখা আছে কি?

৬. বিক্রেতার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেছেন কি?

৭. বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দাম হলে তার কারণ জেনেছেন কি?

দাম নয়, স্বর্ণের প্রকৃত মানকে গুরুত্ব দিন

স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ওঠানামা করে। ফলে এক দিনে যে দামে গয়না পাওয়া যায়, পরবর্তী সময়ে সেই দাম বদলে যেতে পারে। এ কারণে গয়না কেনার আগে বাজুসের সর্বশেষ দর যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে শুধু দাম কমেছে কি না, সেটিই কেনাকাটার একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয়। গয়নার বিশুদ্ধতা, ওজন, মজুরি, হলমার্ক, ক্যাশমেমো এবং বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা—সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেখতে চকচকে হলেই স্বর্ণ খাঁটি হয় না। গয়নার গায়ে লেখা মানের সঙ্গে প্রকৃত বিশুদ্ধতার মিল রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করাই ক্রেতার প্রধান কাজ। তাই স্বর্ণ কেনার আগে প্রশ্ন করুন, প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখুন এবং সব নথি সংরক্ষণ করুন।

রাকিব/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী ফুটবলের তারকাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে ...

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে ...