আবারও বাড়তে পারে এলপিজির দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকটের মধ্যে আবারও সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগে এ বিষয়ে গণশুনানির কথা রয়েছে। তবে নতুন দাম কত নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বাসাবাড়ির গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাড়তি দাম দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে সহজে মিলছে না গ্যাস।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর পাশাপাশি চায়ের দোকানসহ ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়েছে।
ট্রান্সক্রিপ্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেজগাঁও কলোনি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালানো এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গ্যাসের সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে এখন অনেক বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার পর্যায়ে থাকলেও সংকটের সুযোগে কোথাও কোথাও ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে বাসাবাড়ির গ্রাহকদেরও নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অতিরিক্ত দামের অভিযোগ সব এলাকার বাজারদরকে প্রতিনিধিত্ব করে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এলপিজি সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার না পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ৩১৫টি সিলিন্ডারের চাহিদা পাঠিয়েও তিনি পেয়েছেন মাত্র ৬৬টি।
আরেক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, গ্যাসের সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে কয়েক দিন সময় লাগছে। পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতাদের কেউ কেউ।
তবে বাজারে সংকটের প্রকৃত কারণ, সরবরাহ ঘাটতির পরিমাণ এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার ব্যাপকতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এরপর বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এখন নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে গণশুনানি আয়োজন করা মানেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে—এমন নয়। নতুন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
এলপিজির দাম নিয়ে বিইআরসির গণশুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বৃহস্পতিবার। সেখানে মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। তবে শুনানির পর দাম বাড়বে, কমবে নাকি অপরিবর্তিত থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
গ্রাহকদের প্রত্যাশা, নতুন মূল্য নির্ধারণের আগে বাজারে সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো হবে।
রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে তা সরাসরি পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে চায়ের দোকান, ছোট হোটেল ও খাবারের ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে।
তাই এলপিজির মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে নির্ধারিত দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের বিইআরসির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।
এলপিজির সংকটের মধ্যে আবারও দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে নতুন মূল্য এখনো নিশ্চিত নয়। গণশুনানি ও বিইআরসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কি না, তা স্পষ্ট হবে।
সোহাগ/
