| ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

দাফনের জায়গা নেই, বসতঘরেই কবর দেওয়া হলো বৃদ্ধকে

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ২০:২৮:২৮
দাফনের জায়গা নেই, বসতঘরেই কবর দেওয়া হলো বৃদ্ধকে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুরের শ্রীবরদীতে দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় বসতঘরের ভেতরেই কবর দেওয়া হয়েছে করিম মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে। দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে থাকা এই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, কবর দেওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঘরেই দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে করিম মিয়ার মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। ঘটনাটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের।

যে ঘরে থাকতেন, সেখানেই কবর

করিম মিয়ার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তাঁর ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকায় থাকেন, আরেক মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। তাঁর স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৬০) এখনো সেই বসতঘরেই বসবাস করছেন। ঘরের এক পাশে স্বামীর কবর, অন্য পাশে তাঁর থাকার জায়গা।

পরিবারের এই পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় একটি বসতঘরই হয়ে উঠেছে বৃদ্ধের শেষ আশ্রয়।

চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিক্রি করতে হয় জমি

করিম মিয়ার বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি ঘরেই পড়ে থাকতেন। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাবার থাকার ঘরসহ তিন শতাংশ জমি ফুফুর কাছ থেকে কিনে নেন তিনি। জমিটি কেনার পরও ঘরটি তাঁর বাবা-মায়ের বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

কোতুলী বেগম বলেন, তাঁরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করেন। বাবাকে দাফন করার মতো অন্য কোনো জায়গাজমি তাঁদের নেই। এলাকায় সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানে দাফন করা সম্ভব হতো বলেও জানান তিনি।

একসময় জমিজমা ছিল, পরে বিক্রি করতে হয়েছে

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ মিয়া জানান, একসময় করিম মিয়ার জমিজমা ও প্রতিপত্তি ছিল। তবে অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁকে জমি বিক্রি করতে হয়।

পরিবারের বক্তব্য ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অসুস্থতা এবং জমিজমা হারানোর পর দাফনের জন্য আলাদা জায়গার সংকট তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বসতঘরের ভেতরেই তাঁকে কবর দেওয়া হয়।

গ্রামে কবরস্থানের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনল ঘটনা

শালমারা গ্রামের এই ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় দাফনের উপযুক্ত জায়গা ও কবরস্থানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের নিজস্ব জমি নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর দাফনের জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে গ্রামটিতে সরকারি বা সর্বসাধারণের ব্যবহারের কবরস্থান একেবারেই নেই কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

তথ্যসূত্র: সরবরাহ করা সংবাদবিবরণী ও সেখানে উল্লেখিত পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ, রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সোলোনা, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ, রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সোলোনা, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্প্যানিশ লা লিগার উত্তেজনাপূর্ণ এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার ...

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে ...