ঘরে বসে একক্লিকে বাতিল করুন টিন সার্টিফিকেট
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট করলেও পরবর্তী সময়ে অনেকের আর সেটির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু টিআইএন নিবন্ধন করা থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
তবে শুধু করযোগ্য আয় না থাকা কিংবা টিআইএন ব্যবহার না করার কারণে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। আবেদন করার আগে নিজের কর-সংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানা জরুরি।
টিআইএন বাতিলের বিষয়টি করদাতার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। কয়েকটি পরিস্থিতিতে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে।
১. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে।
২. একই ব্যক্তির নামে একাধিক টিআইএন থাকলে
ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে কোন নম্বরটি বহাল থাকবে এবং অন্যটি কীভাবে বাতিল করা যাবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিতে হবে।
৩. টিআইএন নেওয়ার প্রয়োজন শেষ হলে
নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। তবে আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদনের বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনগত শর্তের ওপর।
৪. করযোগ্য আয় না থাকলে
আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে কেউ কেউ টিআইএন বাতিলের কথা ভাবেন। কিন্তু আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকাই টিআইএন বাতিলের স্বয়ংক্রিয় ভিত্তি নয়। ওই ব্যক্তির রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
৫. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে
দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকলেও টিআইএন বাতিলের বিষয়টি স্বয়ংক্রিয় নয়। দেশে আয়, সম্পদ, কর-সংক্রান্ত দায় এবং টিআইএন রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৬. টিআইএনধারীর মৃত্যু হলে
কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তাঁর টিআইএন ও সংশ্লিষ্ট কর-নথির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
টিআইএন বাতিলের জন্য প্রথমে নিজের কর-সংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করতে হবে। এরপর এনবিআরের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। আবেদন অনলাইনে করা যাবে কি না এবং কী কী নথি প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
অনলাইনে আবেদনের নিয়ম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত সেবা ও বাতিলের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জানা যাবে।
ওয়েবসাইট: https://nbr.gov.bd/
অনলাইনে সংশ্লিষ্ট সেবা চালু থাকলে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, বাতিলের কারণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি দিতে হতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করতে পারে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র বা ব্যাখ্যাও চাওয়া হতে পারে। তাই আবেদন জমা দিলেই টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সরাসরি আবেদন করতে চাইলে
অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে বর্তমান নিয়ম জেনে নেওয়া যেতে পারে।
পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ;
-
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;
-
টিআইএন বাতিলের কারণ উল্লেখ করে আবেদনপত্র;
-
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়;
-
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বা অন্যান্য নথি।
সব আবেদনকারীর জন্য একই নথি প্রয়োজন হবে, এমন নয়। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
টিআইএন বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হলে ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব কী থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও করদাতার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বিশেষ করে বাতিলের আগের সময়ের কোনো বকেয়া কর, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা বা অন্য কোনো কর-দায় থাকলে তা নিষ্পত্তির প্রয়োজন হতে পারে।
তাই টিআইএন বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে অনুমোদনের প্রমাণপত্রও সংগ্রহ করতে হবে।
টিআইএন আর প্রয়োজন নেই মনে হলেই তাড়াহুড়ো করে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন।
-
আপনার বর্তমান আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না।
-
ব্যবসা, সম্পত্তি বা অন্য কোনো আর্থিক কার্যক্রমের জন্য টিআইএন প্রয়োজন কি না।
-
আগের কোনো কর-দায় বা রিটার্নসংক্রান্ত বিষয় বাকি আছে কি না।
-
টিআইএন বাতিলের জন্য আপনার পরিস্থিতিতে আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না।
-
ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, ব্যবসা বা দাপ্তরিক কাজে আবার টিআইএন প্রয়োজন হতে পারে কি না।
সবশেষে, টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এনবিআর বা সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের নির্দেশনা যাচাই করুন। প্রয়োজনে কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো এবং নিজের কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সহজ হবে।
সোহাগ/
