| ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

এবার বাংলাদেশে শীত কেমন হবে, এল নিনো নিয়ে পূর্বাভাস

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১০:২০:৪৪
এবার বাংলাদেশে শীত কেমন হবে, এল নিনো নিয়ে পূর্বাভাস

প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব বাড়ার পূর্বাভাস ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের শীতের ধরন নিয়ে। এবার কি শীতের তীব্রতা কম হবে, নাকি উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জেঁকে বসবে ঠান্ডা? আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শুধু এল নিনোর উপস্থিতি দিয়ে বাংলাদেশে শীত কতটা তীব্র হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এল নিনো শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে বাংলাদেশের শীতের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপরও।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহ এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে এল নিনো সক্রিয় থাকলেই সব দেশে শীত কম হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কোথাও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে, আবার কোথাও আবহাওয়ার ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এল নিনোর কারণে বাংলাদেশে ঠিক কতটা তাপমাত্রা বাড়বে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক মনে করেন, এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা ও গরমের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে এর প্রভাব অঞ্চলভেদে আলাদা হবে।

এল নিনোর প্রভাবে বছরের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে। কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে বাংলাদেশে এবার শীতের মেয়াদ কমবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শীতের তীব্রতা নির্ধারণে তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসের দিক ও গতি, আকাশের অবস্থা এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

এল নিনোর প্রভাব নিয়ে আলোচনা থাকলেও এর কারণে বাংলাদেশের শীতের ধরন ঠিক কীভাবে বদলাবে, তা জানতে পরবর্তী মৌসুমি পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে হবে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতের মতে, কার্বন নিঃসরণসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো ও লা নিনার প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা বাড়লেও নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চলে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

এল নিনোর সময় তাপমাত্রা বাড়তে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব আগে থেকেই নির্ধারণ করা যায় না। তাই শুধু এই জলবায়ু পরিস্থিতির ভিত্তিতে শীতের তীব্রতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। মাসের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তাঁর মতে, ঢাকায় ডিসেম্বর থেকে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ সময় রাজধানীর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী কয়েক মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে এগুলো সম্ভাব্য পূর্বাভাস। প্রকৃত তাপমাত্রা ও শীতের তীব্রতা নির্ভর করবে তখনকার আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর।

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ইতোমধ্যে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, রাত ও ভোরে কুয়াশার প্রবণতা বাড়ছে। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় দিনের বেলায় গরম এবং রাত ও ভোরে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।

আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য থেকে বলা যায়, এবার শীতের তীব্রতা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি। এল নিনোর প্রভাবের কারণে তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমা, কুয়াশা বৃদ্ধি এবং উত্তর-পশ্চিম দিকের বাতাস শীতের অনুভূতি বাড়াতে পারে।

অর্থাৎ, এল নিনো সক্রিয় থাকলেই বাংলাদেশে শীত কম হবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের তাপমাত্রার প্রবণতা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করেই এবার শীতের প্রকৃত ধরন সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী ফুটবলের তারকাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে ...

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে ...