| ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

নভেম্বরের মধ্যে চালু হতে পারে বন্ধ ৩ সার কারখানা

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৭:৫৮:১৫
নভেম্বরের মধ্যে চালু হতে পারে বন্ধ ৩ সার কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রীয় সার কারখানা আগামী নভেম্বরের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ শেষ হলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

একই সঙ্গে পুরনো কারখানার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বছরে ২৭ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

কোন তিনটি সার কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির অধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে চারটি চালু রয়েছে। গ্যাস ও কাঁচামালের সংকটে বন্ধ রয়েছে তিনটি কারখানা। এগুলো হলো:

- টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিএল): চট্টগ্রাম

- ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল): চট্টগ্রাম

- আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল): ব্রাহ্মণবাড়িয়া

কারখানাগুলো চালুর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেরামতকাজ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বাসসকে জানান, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন শুরু করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি কারখানা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এসব বিষয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে নভেম্বরের মধ্যে তিনটি কারখানা চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশে কত সার উৎপাদন হয়েছে?

বিসিআইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সার কারখানাগুলোতে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার উৎপাদিত হয়েছে। ওই অর্থবছরে ইউরিয়ার উৎপাদন ছিল প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন।

একই অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে এই চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনে চাহিদার যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কাঁচামাল সরবরাহ এবং কারখানার কার্যক্ষমতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সার আমদানিতে কত টাকা ব্যয় কমানোর লক্ষ্য?

দেশে সার উৎপাদন বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা।

বিসিআইসির চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৭৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করতে হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে ইউরিয়া আমদানিতে ব্যয় কমানো। এ ক্ষেত্রে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সাশ্রয়ের লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করবে উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানির পরিমাণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামের ওপর।

আগামী পাঁচ বছরে বছরে ২৭ লাখ টন সার উৎপাদনের পরিকল্পনা

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুরনো সার কারখানাগুলোর প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউরিয়া ও টিএসপি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিসিআইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়তে পারে।

তবে এ জন্য কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি:

- সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ।

- টিএসপি ও ডিএপি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান।

- পুরনো কারখানার যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।

- নতুন কারখানা স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।

- উৎপাদিত সারের গুণগত মান ও সরবরাহব্যবস্থা বজায় রাখা।

এসব শর্ত পূরণ না হলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে।

কৃষকদের জন্য কী সুবিধা হতে পারে?

বন্ধ সার কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে দেশে সার উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আমদানির প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পেতে পারে।

দেশীয় উৎপাদন বাড়লে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ সহজ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে কারখানা চালু হলেই বাজারে সারের দাম কমবে বা সরবরাহের সব সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন, মজুত ও বিতরণব্যবস্থাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের সার উৎপাদন বাড়াতে বন্ধ থাকা টিএসপি, ডিএপি ও আশুগঞ্জ সার কারখানা নভেম্বরের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল পাওয়া গেলে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিআইসি।

পাশাপাশি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বছরে ২৭ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কারখানাগুলো কবে উৎপাদনে ফিরবে এবং উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী ফুটবলের তারকাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে ...

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন, ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে ...