নবম পে স্কেল: বাকি দুই প্রজ্ঞাপন হলে সুবিধা পাবেন এমপিও শিক্ষক
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেকের দাবি, বাকি দুটি প্রজ্ঞাপন জারি হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়েও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত আসার কথা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবদুল মালেক বলেন, নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা সব সংশ্লিষ্ট শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন একই সঙ্গে পান, সে জন্য তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নতুন পে স্কেল কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত হতে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যাচাই করা প্রয়োজন।
নবম পে স্কেলের বাকি দুই প্রজ্ঞাপন কবে?
আবদুল মালেকের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে একটির গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে আরও দুটি প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনার অপেক্ষা রয়েছে বলে তিনি জানান।
তাঁর আশা, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অথবা মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা জারি হলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া বা ফিক্সেশন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এটি তাঁর প্রত্যাশা, নিশ্চিত সরকারি সময়সূচি নয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কি আলাদা করে আবেদন করতে হবে?
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেলের আওতায় আনার বিষয়ে আলাদা আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবদুল মালেক। তাঁর মতে, বেতনকাঠামো সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি নিয়ে আন্দোলন চলতে পারে। তবে শুধু পে স্কেলের জন্য আলাদা আন্দোলন করার আগে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে কি বর্ধিত বেতন পাওয়া যাবে?
আবদুল মালেকের বক্তব্য অনুযায়ী, কারও প্রজ্ঞাপন পরে জারি হলেও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সুবিধা কার্যকর হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বর্ধিত বেতন, বকেয়া বা অন্যান্য সুবিধা ঠিক কীভাবে দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এ কারণে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ এবং বেতন কার্যকরের তারিখের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কি না, তা সরকারি নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন কত?
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন: ২০ হাজার টাকা
প্রথম গ্রেডের মূল বেতন: ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধি: সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত
প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড: মূল বেতন দ্বিগুণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা: মাসে ৩ হাজার টাকা
মোবাইল ভাতা: সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে
নতুন কাঠামোর প্রভাব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। নিট পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য বিভিন্ন স্তরে পেনশন বৃদ্ধির ব্যবস্থার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব সুবিধার চূড়ান্ত প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও অনুমোদিত বিধানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এখন কী করা উচিত?
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের দিকে নজর রাখা। নতুন বেতনকাঠামো তাঁদের ক্ষেত্রে কীভাবে কার্যকর হবে, বেতন ফিক্সেশন কখন শুরু হবে এবং বকেয়া পাওয়ার নিয়ম কী হবে, এসব বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
আবদুল মালেকের বক্তব্যে আশার কথা উঠে এলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই হবে মূল ভিত্তি।
সোহাগ/
