সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে তাঁরা এ প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে রোজায় খেজুরের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে রাখতে আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে আপাতত লিটারপ্রতি ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর বিষয়টি ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে নতুন দাম সম্পর্কে জানা যাবে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামে পণ্য সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তাই রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে, এমনটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ভোজ্যতেল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অন্যতম। ফলে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে তা পরিবারের মাসিক বাজার খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রমজানে রান্নার তেলের চাহিদা বাড়লে বিষয়টি ভোক্তাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রমজানে খেজুরের চাহিদা বাড়ে। এ সময় দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে রাখতে আমদানিকারকরা খেজুর আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারকদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। তাঁদের মতে, উচ্চ শুল্কায়নমূল্য ও আমদানি ব্যয়ের কারণে বাজারে খেজুরের দাম বেড়ে যায়।
খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। তবে শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা কার্যকরের তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। তাই সব ধরনের খেজুরের জন্য একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আমদানিকারকদের দাবি, শুল্ক ও করের চাপ কমানো গেলে খেজুর আমদানির ব্যয় কমতে পারে। তবে এর ফলে খুচরা বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আমদানি ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর।
রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে, খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি এনবিআরের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তাই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে বা খেজুরের দাম কমছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সরকারি ঘোষণা ও বাজারদর পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে ভোক্তারা নতুন মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
সোহাগ/
