নতুন বেতনকাঠামো: ১ নভেম্বর বেতন, বাড়তি টাকা পাবেন না যারা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে বেতন নির্ধারণে জটিলতা ও বিভিন্ন অসংগতি থাকায় ১ নভেম্বর থেকেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু দপ্তরে নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে যাঁদের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত পুরোনো কাঠামোয় বেতন দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রজ্ঞাপন কবে জারি হয়?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতার জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি মূল বেতনের একটি অংশ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। পরবর্তী ধাপে এই হার বাড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কেন নতুন বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে কয়েক ধরনের অসংগতি সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তুলনায় জুনিয়র কর্মকর্তার বেতন বেশি নির্ধারিত হওয়া।
পদোন্নতির পর কোনো কোনো কর্মীর মোট আয় কমে যাওয়ার অভিযোগ।
উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণে অসংগতি।
বেতন নির্ধারণ ও হিসাবের সফটওয়্যার আইবাস++ ব্যবস্থায় জটিলতা।
এসব সমস্যা সমাধান না হওয়ায় কিছু দপ্তরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কারা নতুন কাঠামোর বাড়তি বেতন পেতে দেরির মুখে?
প্রতিবেদনে অর্থ বিভাগের সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তবে সবার বেতন বা সুবিধা একই প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয় না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব, প্রযোজ্য আদেশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে ভুল বা অসংগতি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বাড়তি অর্থ পাওয়ার বিষয়ে দেরি হতে পারে। তবে কারা নির্দিষ্ট দিনে কত টাকা পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বেতন নির্ধারণ ও অর্থ ছাড়ের অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
বকেয়া বেতন কি পাওয়া যাবে?
নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী যাঁদের বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা, তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বকেয়া অর্থ কবে এবং কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
বেতন নির্ধারণে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাব শাখা বা দপ্তরের মাধ্যমে তা যাচাই ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে বলেই প্রত্যেক কর্মী একই দিনে সম্পূর্ণ বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাবেন—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
১ নভেম্বর কি সবাই নতুন বেতন পাবেন?
প্রতিবেদনে ১ নভেম্বর থেকে বেতন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হলেও, সেদিন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব এবং বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তাই সরকারি চাকরিজীবীদের উচিত নিজ নিজ দপ্তরের হিসাব শাখা থেকে বেতন নির্ধারণের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়া এবং কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
সারকথা: নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, কিন্তু বেতন নির্ধারণের জটিলতার কারণে ১ নভেম্বর সবাই বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্যের জন্য অর্থ বিভাগের সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং নিজ নিজ দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
সোহাগ/
