কবরের আজাব থেকে বাঁচতে প্রতিদিন পড়ুন এই সূরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মৃত্যু প্রতিটি মানুষের জীবনে অবধারিত সত্য। দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আখিরাতের যাত্রা। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, কবর আখিরাতের প্রথম ধাপ। তাই পরকালের শান্তি ও মুক্তির আশায় প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নেক আমল করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় প্রার্থনা করা।
ইসলামে এমন কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পবিত্র কুরআনের ৬৭তম সূরা সূরা মুলক তিলাওয়াত করা। হাদিসে এই সূরার ফজিলত এবং কবরের আজাব থেকে মুক্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা পাওয়া যায়।
মৃত্যু থেকে কেউই রেহাই পাবে না
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই, যদিও তোমরা সুউচ্চ ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো।”
— সূরা আন-নিসা, আয়াত ৭৮
মৃত্যুর কথা স্মরণ করা মানুষকে সৎকাজে উৎসাহিত করে এবং পাপ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতকে আখিরাতের প্রস্তুতি নিতে এবং কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে শিক্ষা দিয়েছেন।
কবরের আজাব থেকে মুক্তির বিষয়ে সূরা মুলকের ফজিলত
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে সূরা মুলকের বিশেষ ফজিলতের ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। এক ব্যক্তি অজান্তে একটি কবরের ওপর তাঁবু স্থাপন করেন। পরে তিনি কবরের ভেতর থেকে একজনকে সূরা মুলক তিলাওয়াত করতে শুনতে পান। ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সূরাটি পাঠ করেন।
ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানানো হলে তিনি সূরা মুলক সম্পর্কে এর ফজিলত তুলে ধরেন। বর্ণনায় এসেছে, এই সূরা কবরের আজাব থেকে রক্ষাকারী।
— জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ২৮৯০
৩০ আয়াতের যে সূরা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে
অন্য একটি হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, পবিত্র কুরআনে ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়। সেই সূরাটি হলো সূরা মুলক।
হাদিসে সূরাটির শুরু এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: “তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক।”
— জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ২৮৯১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৪০০
কখন ও কীভাবে পড়বেন সূরা মুলক?
ইসলামি আলেমরা সূরা মুলকের ফজিলতের কথা উল্লেখ করে নিয়মিত এই সূরা তিলাওয়াতের প্রতি উৎসাহ দেন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মুলক পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
এই আমল পালনের জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- প্রতিদিন রাতে সূরা মুলক তিলাওয়াতের অভ্যাস করুন।
- শুধু তিলাওয়াত নয়, সূরাটির অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করুন।
- নিয়মিত নামাজ আদায় করুন এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা চান।
- কবরের আজাব ও আখিরাতের কঠিন পরিস্থিতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন।
- নিজের আমল সংশোধন করুন এবং মানুষের হক আদায়ে সচেতন থাকুন।
মনে রাখতে হবে, কোনো আমলকে আল্লাহর রহমত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা উচিত নয়। সূরা মুলকের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে সুসংবাদ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত মুক্তি ও ক্ষমা আল্লাহর ইচ্ছা ও রহমতের ওপর নির্ভরশীল।
তাই দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় বের করে সূরা মুলক তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলুন। কুরআন পাঠ, নেক আমল এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
সিদ্দিকা/
