| ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

৭ খাতের আয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১২:৩০:২১
৭ খাতের আয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আয়কর রিটার্ন দাখিল নিয়ে অনেকেরই নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে কোন কোন খাত থেকে আয় থাকলে রিটার্ন দিতে হয় এবং রিটার্ন জমা দিলেই কর পরিশোধ করতে হয় কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়।

আয়কর রিটার্ন হলো একজন করদাতার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের বিস্তারিত তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে নির্ধারিত নিয়মে জমা দেওয়া বিবরণী। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষে ১ জুলাই থেকে রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে করদাতাদের রিটার্ন জমা দিতে হয়। তবে কোনো ব্যক্তির আয় থাকলেই যে তাকে অবশ্যই আয়কর দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়।

যেসব ৭ খাতের আয় রিটার্নে দেখাতে হয়

১. চাকরি থেকে আয়

চাকরি থেকে পাওয়া বেতন, বিভিন্ন ভাতা, বোনাস এবং চাকরির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রাপ্তি এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। নিয়োগকর্তার দেওয়া বেতন বিবরণী বা সনদের ভিত্তিতে এসব আয় রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়।

২. বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয়

বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, অফিস কিংবা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় হলে তা রিটার্নে দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভাড়ার চুক্তিপত্র, ব্যাংক লেনদেনসহ প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. কৃষি থেকে আয়

ফসল উৎপাদন, কৃষিকাজ, পশুপালন কিংবা কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয় এ খাতে পড়তে পারে। কৃষি আয় থাকলে আয় ও ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রিটার্নে তা উল্লেখ করতে হয়।

৪. ব্যবসা থেকে আয়

দোকান, প্রতিষ্ঠান, অনলাইন ব্যবসা, পেশাগত সেবা কিংবা অন্য কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয় রিটার্নে দেখাতে হয়। ব্যবসার ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

৫. মূলধনি আয়

জমি, বাড়ি, শেয়ার বা অন্য কোনো মূলধনি সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা মূলধনি আয়ের আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

৬. আর্থিক সম্পদ থেকে আয়

ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, শেয়ার এবং অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। এসব আয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সনদ ও বিবরণীর ভিত্তিতে তথ্য দিতে হয়।

৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়

রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী, বিভিন্ন ধরনের ফি এবং নির্ধারিত অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া আয় এ শ্রেণিতে পড়তে পারে। ওপরের ছয়টি খাতের বাইরে থাকা প্রযোজ্য আয় নির্ধারিত নিয়মে অন্যান্য উৎসের আয় হিসেবে দেখাতে হয়।

রিটার্ন দিলেই কি আয়কর দিতে হবে?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা জরুরি। রিটার্ন দাখিল করা এবং আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়।

কারও আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে। আবার করযোগ্য আয় থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী আয়কর পরিশোধ করতে হতে পারে।

২০২৬-২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ পুরুষ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য এই সীমা ৫ লাখ টাকা। গেজেটেড যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া কোনো করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে নির্ধারিত শর্তে পিতা, মাতা বা আইনগত অভিভাবকের করমুক্ত আয়সীমায় অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শুধু TIN থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে?

শুধু TIN বা কর শনাক্তকরণ নম্বর থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে একই কারণে রিটার্ন দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। তবে ব্যক্তির আয় ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।

করমুক্ত সীমার বেশি আয় হলে সাধারণত রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হয়। আবার আয় কম হলেও আইনে নির্ধারিত কিছু পরিস্থিতিতে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে।

যেমন, আগের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে, কোনো ফার্মের অংশীদার হলে, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী হলে কিংবা সরকারি কর্মচারী হলে নির্ধারিত শর্তে রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে।

এ ছাড়া আইন অনুযায়ী আরও কিছু ক্ষেত্রে আয় কম হলেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।

তাই শুধু আয়ের পরিমাণ বিবেচনা করে রিটার্ন দিতে হবে কি না সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তির আয়, পেশা, সম্পদ, পূর্ববর্তী কর-সংক্রান্ত অবস্থা এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও বিবেচনায় নিতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের আগে নিজের আয়ের উৎস, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্ট; লাইভ দেখুন এখানে

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্ট; লাইভ দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। মিচেল ...

র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের জয়জয়কার, বড় লাফ তানজিদ-হাসানের

র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের জয়জয়কার, বড় লাফ তানজিদ-হাসানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম টরন্টো এফসি, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম টরন্টো এফসি, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল মেসি গোল করেও ইন্টার মায়ামিকে হার থেকে বাঁচাতে পারলেন না। ঘরের মাঠে ...

ঢাকায় আসছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার

ঢাকায় আসছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আসছেন আর্জেন্টিনার নব্বইয়ের দশকের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্লদিও ক্যানেজিয়া। আগামী সোমবার (১৭ আগস্ট) ...