নতুন নিয়মে জমির নামজারি: লাগবে কেবল এই কয়েকটি কাগজ!
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমির মালিকানা সুনিশ্চিত করতে এবং যেকোনো জমি কেনাবেচা বা খাজনা প্রদানের ক্ষেত্রে ই-নামজারি বা মিউটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়মে এখন খুব সহজেই অনলাইনে ঘরে বসেই নামজারির আবেদন সম্পন্ন করা যাচ্ছে। আবেদন করা থেকে শুরু করে নতুন কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিয়ম ও খরচের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নামজারি করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
অনলাইনে আবেদনের পূর্বে নিচে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলো স্ক্যান করে (প্রতিটি PDF সর্বোচ্চ ১.২৫ মেগাবাইট) প্রস্তুত রাখতে হবে:
* মালিকানার মূল দলিল এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২৫ বছরের বায়া দলিল।
* রেকর্ডীয় খতিয়ান (সিএস/এসএ/আরএস/বিএস/বিআরএস খতিয়ান)।
* ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের সর্বশেষ দাখিলা বা রসিদ।
* আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন সনদ।
* আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর।
* আবেদনকারীর নামে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল অ্যাড্রেস।
* বিশেষ দ্রষ্টব্য (উত্তরাধিকার সূত্রের জমি): ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওয়ারিশি জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম একত্রে যৌথ খতিয়ানে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। ওয়ারিশি জমির ক্ষেত্রে মূল দলিলের পরিবর্তে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ সাবমিট করতে হবে।
২. আবেদন থেকে খতিয়ান পাওয়ার ৪টি সহজ ধাপ
ধাপ ১: অনলাইনে আবেদন ও ফি প্রদান
প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ই-মিউটেশন পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও দলিল আপলোড করে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা—অর্থাৎ মোট ৭০ টাকা অনলাইন গেটওয়ের (বিকাশ, রকেট, নগদ বা কার্ড) মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে।
ধাপ ২: ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও এসি ল্যান্ড যাচাইকরণ
আবেদন সাবমিট হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যায়। সেখানে নায়েব বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জমির সরজমিন তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসে প্রতিবেদন পাঠান।
ধাপ ৩: শুনানি গ্রহণ
আবেদনে কোনো ত্রুটি না থাকলে শুনানির জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়, যা আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। শুনানির দিনে মূল কাগজপত্রসহ এসি ল্যান্ড অফিসে উপস্থিত হয়ে শুনানি সম্পন্ন করতে হবে।
ধাপ ৪: ডিসিআর (DCR) ফি ও খতিয়ান সংগ্রহ
আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুর হওয়ার পর ডিসিআর (DCR) বা রেকর্ড সংশোধন ফি বাবদ ১,১০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের পর সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর জেনারেট হবে, যা ঘরে বসেই অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট নেওয়া যাবে।
মোট খরচ ও সময়সীমা
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নামজারি সম্পন্ন করতে মোট ১,১৭০ টাকা সরকারি ফি লাগে (আবেদন ও নোটিশ ফি ৭০ টাকা + ডিসিআর ফি ১১০০ টাকা)। কোনো অতিরিক্ত ফি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ডিজিটাল ব্যবস্থায় সাধারণত ২৮ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে।
সোহাগ/
