১৯৭৩ থেকে ২০২৬: পে স্কেলে কত বেড়েছে সরকারি বেতন
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। নতুন বেতন কাঠামোয় কার বেতন কত বাড়বে, তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ বেড়েছে। এরই মধ্যে অতীতের পে স্কেলগুলোতে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়েছিল, সেটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট আটবার জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতন বৈষম্য দূর করতে যথেষ্ট নয়। এ কারণেই নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন পে স্কেল প্রণয়নের প্রয়োজন হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের জন্য পৃথক একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বাংলাদেশে জাতীয় পে স্কেলের ইতিহাস
১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়। সে সময় ১০টি গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ছিল ২ হাজার টাকা।
১৯৭৭ সালের দ্বিতীয় পে স্কেলে ২১টি গ্রেড চালু করা হয়। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২২৫ টাকা হয়, যা প্রায় ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি। সর্বোচ্চ বেতন ২ হাজার থেকে বেড়ে ৩ হাজার টাকা হয়, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
১৯৮৫ সালের তৃতীয় পে স্কেলে সবচেয়ে বড় বেতন বৃদ্ধি দেখা যায়। সর্বনিম্ন মূল বেতন ১২২.২ শতাংশ বেড়ে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১০০ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
১৯৯১ সালের চতুর্থ পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮০ শতাংশ বেড়ে ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার টাকা হয়।
১৯৯৭ সালের পঞ্চম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০০৫ সালের ষষ্ঠ পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৬০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫৩ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার টাকা হয়।
২০০৯ সালের সপ্তম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।
নবম পে স্কেল নিয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই গেজেট প্রকাশ করা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রজ্ঞাপন জারিতে বেশি সময় লাগবে না।
এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর রয়েছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।
আশা/
