৫ আগস্ট থেকে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি; কারা পাবেন না
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশজুড়ে সাধারণ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরিজীবীরা ১ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি (CL) সমন্বয় করতে পারলে, শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৪ দিনের ছুটি কাটানোর এক দারুণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থাকছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জরুরি ও জনসেবামূলক খাতের (Essential Services) প্রতিষ্ঠানগুলো এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে। জনস্বার্থে যেসব খাতের কর্মীদের এই দিনগুলোতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, তার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল
সারা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ইনডোর সেবাসমূহ এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এই ছুটির দিনগুলোতে সম্পূর্ণ সচল থাকবে। ফলে চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সাথে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ছুটিতে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী
দেশজুড়ে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং কোস্ট গার্ডসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তারা বরাবরের মতোই মাঠে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
ফায়ার সার্ভিস ও ফায়ার ফাইটার্স
যেকোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা বা দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমসহ সব ফায়ার স্টেশনের উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার ফাইটাররা ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন।
ইউটিলিটি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ (ওয়াসা) এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকনিক্যাল টিম ছুটির দিনগুলোতেও শিফট অনুযায়ী শিডিউল ডিউটি পালন করবেন।
গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মী
জনগণকে মুহূর্তের সঠিক খবর পৌঁছে দিতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক, ভিডিওগ্রাফার ও সংবাদ সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল কর্মীরা এই ছুটির আওতাভুক্ত থাকবেন না।
যোগাযোগ ও বন্দর সেবা
দেশের বিমানবন্দরসমূহ, সমুদ্র ও স্থলবন্দর এবং রেলওয়ের মতো জরুরি যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের অপারেশনাল ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বিভাগগুলো এই দিনগুলোতে খোলা থাকবে।সর্বসাধারণের সুবিধার্থে এই জরুরি খাতগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোহাগ/
