আশা ইসলাম
রিপোর্টার
ময়নাতদন্ত করলে কি মৃত ব্যক্তি কষ্ট পায়
ময়নাতদন্ত কি মৃত ব্যক্তির কষ্টের কারণ? যা বলছেন চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের মৃত্যুর পর শোকাতুর পরিবারের কাছে ময়নাতদন্ত বা অটোপসি একটি আতঙ্কের নাম। অধিকাংশ মানুষের মনে একটিই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে—ময়নাতদন্ত করলে কি মৃত ব্যক্তি ব্যথা বা কষ্ট পায়? ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রথার কারণে এই প্রশ্নটি বারবার আলোচনায় আসে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ধর্মতত্ত্ববিদরা এ বিষয়ে স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক ধারণা দিয়েছেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: ব্যথা পাওয়ার কি কোনো সুযোগ আছে
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়নাতদন্ত চলাকালীন মৃত ব্যক্তির ব্যথা পাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ব্যথার অনুভূতি মূলত স্নায়ুতন্ত্রের (Nervous System) একটি সংকেত যা মস্তিষ্কের মাধ্যমে অনুভূত হয়। মৃত্যুর সাথে সাথে মানুষের মস্তিষ্ক এবং হৃদপিণ্ড কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে স্নায়বিক সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, ময়নাতদন্ত একটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। যেহেতু মৃত ব্যক্তির মস্তিষ্ক মৃত (Brain Dead), তাই কোনো ধরনের কাটাছেঁড়ায় তার শারীরিক ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা থাকে না। ময়নাতদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা, মৃতদেহকে অসম্মান করা নয়।
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি: সম্মান ও ন্যায়বিচারের ভারসাম্য
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মৃতদেহকে সম্মান করা এবং অপ্রয়োজনে কাটাছেঁড়া না করার তাগিদ রয়েছে। ইসলাম ধর্মসহ প্রায় সব ধর্মেই মৃতদেহের অমর্যাদাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ময়নাতদন্তকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হয়।
দেশবরেণ্য আলেমদের মতে, যদি কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ রহস্যজনক হয় এবং সেখানে আইনি জটিলতা বা হত্যার আশঙ্কা থাকে, তবে সত্য উদ্ঘাটন ও অপরাধীকে শনাক্ত করার জন্য ময়নাতদন্ত করা জায়েজ বা বৈধ। এক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো—কারো প্রতি জুলুম রোধে সত্য জানা জরুরি। মৃত ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও তার প্রতি একটি বড় সম্মান।
কেন ময়নাতদন্ত অপরিহার্য
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত না করলে নিরপরাধ ব্যক্তি ফেঁসে যেতে পারে অথবা প্রকৃত খুনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে বিষক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা গোপন কোনো আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করতে ময়নাতদন্তের বিকল্প নেই।
পেশাদারিত্ব ও মরণোত্তর মর্যাদা
বর্তমানে ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে মৃতদেহটি সেলাই করে পুনরায় স্বাভাবিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে মৃতদেহটিকে যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়। ফরেনসিক চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই তারা পালন করেন।
সামাজিক সচেতনতা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ময়নাতদন্ত নিয়ে ভীতি দূর করতে সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। এটি কোনো নির্যাতন নয়, বরং সত্য উদঘাটনের একটি বিজ্ঞানসম্মত মাধ্যম। মৃত ব্যক্তির কষ্টের কাল্পনিক আশঙ্কার চেয়ে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জেনে তাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে স্কেল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: চূড়ান্ত হচ্ছে কাঠামো
- নতুন পে স্কেলের আগে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় সুখবর
- নবম পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত: জানুন বিস্তারিত তথ্য
- নতুন পে স্কেল ঝুলে থাকলেও মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন কর্মচারীরা
- আজকের সোনার বাজারদর: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- পে স্কেলে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল
- নবম পে স্কেল চূড়ান্ত: সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত বাড়ল
- এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচী ঘোষণা
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির যেসব বিদ্রোহী নেতা
- যার নির্দেশে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের উপর হামলা হয়
- জানুয়ারিতেই পে স্কেলের দাবি: ১৬ জানুয়ারি অনশনের ডাক সরকারি কর্মচারীদের
- পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন অর্থ উপদেষ্টা
- শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে: যেসব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস
- পে স্কেলে ১:৮ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ: চূড়ান্ত ঘোষণা ২১ জানুয়ারি
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা যে দিন; যেভাবে দেখবেন
