নরসিংদীর মাধবদী যে কারনে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র হলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে নরসিংদীর মাধবদীতে শুক্রবার যে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছিল, তা ভূ-অভ্যন্তরে সঞ্চিত বিশাল এক শক্তির ক্ষুদ্র একটি উন্মোচন বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। এই কম্পন স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং এটি আরও বড় এক মহাবিপর্যয়ের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, মাধবদীর ভূমিকম্পের কারণ হলো ভূগর্ভে ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন।
১. মাধবদী কম্পনের উৎস ও টেকটনিক প্লেটের অবস্থান
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাধবদী ভূমিকম্পটি ছিল দুটি প্রধান টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে জমে থাকা চাপের বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিকভাবে পশ্চিমে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং পূর্ব দিকে বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত।
* সাবডাকশান জোন: ভারতীয় প্লেট ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে এগিয়ে বার্মা প্লেটের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক 'সাবডাকশান জোন' তৈরি হয়েছে।
* প্রধান ফল্ট লাইন: এই ভয়ংকর জোনটির একটি প্রধান অংশ হলো ডাউকি ফল্ট, যা ময়মনসিংহ-জামালগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলে বিস্তৃত।
২. শক্তি সঞ্চয়: ৮০০ বছরের নীরব হুমকি
অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ইন্ডিয়ান ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলটি দীর্ঘ সময় ধরে 'লকড' অবস্থায় ছিল।
* সঞ্চয়ের সময়: এই দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে ৮০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে।
* সঞ্চিত শক্তির মাত্রা: এই অঞ্চলে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূকম্পন তৈরির মতো শক্তি জমা হয়ে আছে, যা যেকোনো সময় মুক্ত হতে পারে।
৩. মাধবদী কেন 'প্রথম ফাটল'
বিশেষজ্ঞরা মাধবদীর সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী: "এখানে প্লেট লকড হয়ে ছিল। এর অতি সামান্য ক্ষুদ্রাংশ খুললো বলেই শুক্রবারের ভূমিকম্প হয়েছে। এটিই ধারণা দেয় যে সামনে বড় ভূমিকম্প আমাদের দ্বারপ্রান্তে আছে।"
এই ক্ষুদ্র শক্তি বের হওয়ায় সামনে মূল সঞ্চিত শক্তিটি আরও সহজে মুক্ত হয়ে আসার পথ তৈরি হলো, যা বড় বিপদের অপেক্ষা করছে বলে আখতার সতর্ক করেছেন।
৪. ঢাকার চরম পরিণতি ও বিশেষজ্ঞদের আহ্বান
ইতিহাসে এই অঞ্চলে ১৭৬২ সালে ৮.৫ মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ৮.৭ মাত্রার বড় ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ঢাকা শহর।
* মৃত্যুপুরী হওয়ার শঙ্কা: অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং বেশিরভাগ ভবন বিল্ডিং কোড মেনে নির্মিত না হওয়ার কারণে "আমাদের ঢাকা নগরীর একটি মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠার আশঙ্কা আছে।"
* জরুরি পদক্ষেপ: বিশেষজ্ঞ আখতারের মতে, আর অবহেলা না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সবমিলিয়ে, মাধবদীর ভূমিকম্পটি ছিল শুধু একটি সতর্কবার্তা। আসল বিপদ এখনো অপেক্ষায়, যার জন্য ঢাকা শহরের জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নবম পে-স্কেল: ৯০% বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ, রিপোর্ট জমা আগামী সপ্তাহেই
- পে স্কেল: ৭ ইস্যু নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বসছেন কর্মচারীরা
- নবম পে স্কেল কাঠামো আসছে ৩ ধাপে, জানুয়ারির শেষে কার্যকর
- পে-স্কেল নিয়ে সুখবর পেলেন যেসব কর্মকর্তারা
- নবম পে স্কেলে যত বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন
- রাতে টানা দুবার ভূমিকম্পে কেপে উঠলো বাংলাদেশ
- হাড়কাঁপানো শীত ও শৈত্যপ্রবাহ: ৭ জেলায় আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বার্তা
- পে স্কেল নিয়ে তারেক রহমানের দ্বারস্থ সরকারি কর্মচারীরা
- যে ভিটামিনের অভাবে শীতে বেশি ঠান্ডা লাগে
- কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা জানুন
- সয়াবিন তেল নিয়ে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
- ৮ জানুয়ারি পে-কমিশনের মেগা বৈঠক: চূড়ান্ত হতে পারে নবম পে-স্কেল
- নবম পে স্কেল নিয়ে এলো বড় সুখবর
- হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু দেশ: কতদিন চলবে এই শৈত্যপ্রবাহ
