প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমছে, বাড়ছে রাষ্ট্রপতির!
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে প্রস্তাবগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সামান্যই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যদিও এসব প্রস্তাবে ঐকমত্য ও ভিন্নমত দুটোই এসেছে।
সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তন, রাষ্ট্রপতিকে কিছু স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়া, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাব ছিল। তবে এসব প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল ভিন্নমত দিয়েছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ
আগে সংবিধানে সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্য সব নিয়োগে রাষ্ট্রপতির প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলতে হতো। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য প্রথমে 'জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি)' গঠনের প্রস্তাব ছিল, যেখানে নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিরা মিলে বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দেবেন।
তবে এই প্রস্তাবটি থেকে সরে এসে ঐকমত্য কমিশন পরে আলাদা আলাদাভাবে নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুদক, ন্যায়পাল ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) গঠনের জন্য বাছাই কমিটি করার প্রস্তাব দেয়। যদিও এই প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করে বিএনপিসহ কয়েকটি দল। তাদের মতে, এতে নির্বাহী বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়বে।
তবে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এখানে সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বাছাই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার বাছাই করবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমবে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও অন্যান্য পদে থাকা
সংস্কার কমিশনে প্রস্তাব করা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান বা সংসদ নেতা হতে পারবেন না। এই প্রস্তাব নিয়েও বিএনপিসহ কয়েকটি দলের ভিন্নমত আছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি
ঐকমত্য কমিশন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কারো পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন। যদিও গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের বিষয়ে বিএনপিসহ ৬টি দল আপত্তি জানিয়েছে।
এছাড়া জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমানো হয়েছে। এখন থেকে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জরুরি অবস্থা জারি করা যাবে, যেখানে আগে কেবল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরই যথেষ্ট ছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হবে।
সংসদে জবাবদিহি
ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার এবং উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও বিএনপি পিআর পদ্ধতির পরিবর্তে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের পক্ষে।
তবে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এর ফলে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া সংসদ সদস্যরা অন্য যেকোনো বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। একই সাথে সরকারি হিসাব, অনুমিত হিসাব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে নির্বাচন করা হবে, যা প্রধানমন্ত্রীকে আরও বেশি জবাবদিহির মধ্যে আনতে সহায়তা করবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- এসএসসি ও সমমানের খাতা চ্যালেঞ্জের ফলাফল কবে
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর ১৮ আগস্ট ২০২৬
- সামনে ৬ দিন সরকারি ছুটি, তবে আছে দুঃসংবাদও
- মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৬: অনলাইনে আবেদন, শর্ত ও কত টাকা পাবেন
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালে ২১ ক্যারেট সোনার দাম কত হতে পারে
- নবম পে স্কেলে বড় সুখবর, দুই ধাপে বাড়বে বেতন
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬
- এসএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে? শুরু হতে পারে ১৪ মার্চ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ১৯ আগস্ট ২০২৬
- ২৪ আগস্ট আসছে নতুন Pulsar 125 ও 150, থাকছে বড় চমক
- Xiaomi 18 নিয়ে বড় ফাঁস, স্ট্যান্ডার্ড মডেল আসছে ডিসেম্বরে
- এসএসসি খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড আবেদন, ফল প্রকাশ কবে
- হঠাৎ কিস্তিতে Hero Xtreme 125R, কারণ কী
- স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বগতি, আরও বাড়ার ইঙ্গিত
