পে স্কেল ২০১৫: ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন দেখুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হিসাবের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিত্তি। এই বেতন স্কেলে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের পে-ফিকেশন, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে এসব বেতন ধাপ জানা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর বিভিন্ন সরকারি নথি ও আদেশও প্রকাশিত রয়েছে।
১ম থেকে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক প্রারম্ভিক মূল বেতন হলো—
১ম গ্রেড — ৭৮,০০০ টাকা
২য় গ্রেড — ৬৬,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড — ৫৬,৫০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড — ৫০,০০০ টাকা
৫ম গ্রেড — ৪৩,০০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড — ৩৫,৫০০ টাকা
৭ম গ্রেড — ২৯,০০০ টাকা
৮ম গ্রেড — ২৩,০০০ টাকা
৯ম গ্রেড — ২২,০০০ টাকা
১০ম গ্রেড — ১৬,০০০ টাকা
১১তম গ্রেড — ১২,৫০০ টাকা
১২তম গ্রেড — ১১,৩০০ টাকা
১৩তম গ্রেড — ১১,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড — ১০,২০০ টাকা
১৫তম গ্রেড — ৯,৭০০ টাকা
১৬তম গ্রেড — ৯,৩০০ টাকা
১৭তম গ্রেড — ৯,০০০ টাকা
১৮তম গ্রেড — ৮,৮০০ টাকা
১৯তম গ্রেড — ৮,৫০০ টাকা
২০তম গ্রেড — ৮,২৫০ টাকা
এসব হলো সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রাথমিক মূল বেতন। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত নিয়মে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে একই গ্রেডের বেতন ধাপে ধাপে বাড়ে।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্টে কীভাবে বেতন বাড়ে
কোনো সরকারি কর্মচারী চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর বেতন শুধু প্রাথমিক মূল বেতনে স্থির থাকে না। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার পর একই গ্রেডের পরবর্তী বেতন ধাপে যেতে হয়।
তাই পে-ফিকেশনের সময় একজন চাকরিজীবীর বর্তমান গ্রেডের পাশাপাশি তিনি কতটি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন, সর্বশেষ বেতন নির্ধারণ কখন হয়েছে এবং কোনো পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন কি না, সেসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডে বেতন পুনর্নির্ধারণ
চাকরিজীবীর পদোন্নতি হলে নতুন গ্রেড অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে উচ্চতর গ্রেড, টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সরকারি আদেশ ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হয়। অর্থ বিভাগ এ ধরনের বেতন-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা প্রকাশ করে।
বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা
২০১৫ সালের বেতন স্কেলের সঙ্গে বিভিন্ন ভাতার তথ্যও প্রচলিত বিভিন্ন তালিকায় দেখা যায়। এর মধ্যে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক ও টিফিন ভাতার তথ্য রয়েছে।
তবে এসব ভাতা সময় ও সরকারি আদেশ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো কোনো চার্ট দেখে বর্তমানে একজন সরকারি চাকরিজীবী ঠিক কত টাকা বাড়িভাড়া বা অন্যান্য ভাতা পাবেন, তা সরাসরি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
বর্তমান ভাতা ও বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র এবং সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পে-ফিকেশনে যেসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ
একজন সরকারি চাকরিজীবীর পে-ফিকেশন করার সময় সাধারণত তাঁর গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা ও তারিখ, আগের পে-ফিকেশন, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বিবেচনায় নিতে হয়।
শুধু হাতে পাওয়া মোট বেতন দেখে পে-ফিকেশন নির্ধারণ করা যায় না। কারণ মূল বেতন এবং বিভিন্ন ভাতা আলাদা বিষয়। মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা হিসাব করা হয়।
পুরোনো পে স্কেলের চার্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন বেতন কাঠামো বা পে-ফিকেশন নিয়ে আলোচনা হলে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের বেতন ধাপ ও ইনক্রিমেন্টের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুরোনো স্কেলে একজন কর্মচারীর বেতন কীভাবে ধাপে ধাপে বেড়েছে, তা বুঝতে এই কাঠামো সহায়ক।
তবে নতুন কোনো বেতন স্কেল কার্যকর হলে সেটির সরকারি প্রজ্ঞাপন ও পে-ফিকেশন বিধিমালাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো চার্ট বা অনানুষ্ঠানিক তালিকার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণ করা উচিত নয়।
সোহাগ/
