পে স্কেল ২০২৬: ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন ও ইনক্রিমেন্টের হিসাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ কার্যকর করেছে সরকার। অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন পে স্কেলে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতনের নতুন ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পে-ফিক্সেশন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে কোন নিয়মে বেতন নির্ধারণ হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন পে স্কেলে ১ম থেকে ১০ম গ্রেডের বেতন
নতুন বেতন কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন আগের স্কেলের তুলনায় বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য গ্রেডগুলোর নতুন মূল বেতন হলো—
১ম গ্রেড — ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা
২য় গ্রেড — ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা
৩য় গ্রেড — ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা
৪র্থ গ্রেড — ১ লাখ টাকা
৫ম গ্রেড — ৮৬ হাজার টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড — ৭১ হাজার টাকা
৭ম গ্রেড — ৫৮ হাজার টাকা
৮ম গ্রেড — ৪৭ হাজার ২০০ টাকা
৯ম গ্রেড — ৪৫ হাজার ১০০ টাকা
১০ম গ্রেড — ৩২ হাজার টাকা
নতুন বেতন কাঠামোর এসব মূল বেতন অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিতে নির্ধারিত হয়েছে।
ইনক্রিমেন্টে কীভাবে বাড়বে বেতন
নতুন পে স্কেলে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন শুধু সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ওপর নির্ভর করবে না। পে-ফিক্সেশনের সময় ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁর প্রাপ্ত মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং সংশ্লিষ্ট বেতন ধাপ বিবেচনা করা হবে।
এরপর প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হবে। ফলে একই গ্রেডে থাকা দুই কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ, পূর্ববর্তী বেতন ও ইনক্রিমেন্টের কারণে মূল বেতনের পরিমাণ আলাদা হতে পারে।
১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট নিয়ে যা জানা জরুরি
নতুন পে স্কেল কার্যকর হলেও পে-ফিক্সেশন এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টকে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। প্রথমে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ১ জুলাইয়ের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে নতুন কাঠামোর অতিরিক্ত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই হার ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ হবে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেড
নতুন পে স্কেলে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এসব গ্রেডে সংশ্লিষ্ট বেতন ধাপ, বর্তমান মূল বেতন এবং প্রাপ্য ইনক্রিমেন্টের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণ করা হবে।
তাই শুধু কোনো একটি গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন দেখেই একজন কর্মচারীর চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করা যাবে না। তাঁর ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন এবং পে-ফিকেশনের নিয়মও বিবেচনায় নিতে হবে।
নতুন পে স্কেলে ভাতা কীভাবে হিসাব হবে
মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সুবিধার বিষয়ও রয়েছে। এসব সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।
নতুন বেতন কাঠামোতে ভাতার হার ও কার্যকর হওয়ার সময় আলাদা বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো চার্ট দেখে মোট মাসিক বেতন হিসাব করার আগে সরকারি আদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা যাচাই করা প্রয়োজন।
পে-ফিক্সেশনের সময় যেসব তথ্য প্রয়োজন
নতুন পে স্কেলে নিজের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো—
• ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন
• বর্তমান গ্রেড
• বর্তমান বেতন ধাপ
• নতুন স্কেলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের বেতন ধাপ
• ১ জুলাই ২০২৬-এর প্রাপ্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
• পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশনের তথ্য
• পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য
• নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সংশ্লিষ্ট ধাপ
এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ব্যক্তিভেদে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।
পুরো নতুন বেতন একসঙ্গে হাতে পাওয়া যাবে না
নতুন পে স্কেলে গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন বাড়লেও পুরো অতিরিক্ত সুবিধা এক ধাপে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারি আদেশে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ কারণে কোনো গ্রেডের নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন দেখেই সেটিকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর তাৎক্ষণিক হাতে পাওয়া মোট বেতন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতা আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।
চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশই ভিত্তি
নতুন পে স্কেল নিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের চার্ট ও ক্যালকুলেটর দেখা যাচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব অনানুষ্ঠানিক হিসাবের পরিবর্তে অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই প্রয়োজন। অর্থ বিভাগ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আদেশটি প্রকাশ করেছে।
সারকথা, নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা থেকে কাঠামোর ধারণা পাওয়া গেলেও একজন নির্দিষ্ট সরকারি কর্মচারীর চূড়ান্ত বেতন জানতে তাঁর ৩০ জুনের মূল বেতন, গ্রেড, বেতন ধাপ, পে-ফিক্সেশন এবং প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সোহাগ/
