বিজ্ঞান ও যুক্তির নিরিখে মানুষের মৃত্যু পরবর্তী জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের জীবন তিনটি ধাপে বিভক্ত—জন্ম, মৃত্যু এবং পুনরুত্থান। ধর্মীয় দৃষ্টিতে এটি যেমন চিরসত্য, অনেকেই প্রশ্ন করেন—মৃত্যুর পর পচে যাওয়া দেহ, ছাই হয়ে মিশে যাওয়া কঙ্কাল আবার কীভাবে জীবিত হবে?
এ প্রশ্নের জবাব কোরআনে স্পষ্ট। আল্লাহ বলেন, “আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই ফিরিয়ে নেব এবং সেখান থেকেই আবার বের করে আনব।” (সূরা ত্বা-হা)
অনেকে মনে করেন, বিজ্ঞান ও যুক্তি অনুযায়ী মৃত্যুর পর আর কিছুই থাকে না। যেমন কিংবদন্তি পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, মৃত্যুর পর জীবন, স্বর্গ-নরক সবই অলীক কল্পনা। কিন্তু বিজ্ঞান নিজেই কি চূড়ান্ত? না। এক সময় মনে করা হতো সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে। পরে জানা গেল সত্য উল্টো। আজ যেটা সত্য মনে হচ্ছে, তা কাল বদলে যেতে পারে।
আধুনিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরাই আজ বলছেন, মানুষের শরীরে এমন এক ধরনের ডিএনএ (Immortal DNA) আছে, যা মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় টিকে থাকে এবং বারবার নিজেকে পুনর্গঠিত করতে পারে। অনেকেই মনে করেন, হয়তো এই ইমরটাল ডিএনএ'র মাধ্যমেই আল্লাহ আমাদের পুনরায় জীবিত করবেন।
একটি চমৎকার উপমা ব্যবহার করে বিষয়টি আরও সহজে বোঝানো যায়: শরীর যদি হয় হার্ডওয়ার, তবে রুহ হলো সফটওয়ার। শরীর নষ্ট হলে যেমন নতুন কম্পিউটারে পুরোনো সফটওয়ার ইনস্টল করে সব ফিরিয়ে আনা যায়, তেমনি হাশরের দিন আল্লাহ আমাদের রুহ নতুন দেহে ফিরিয়ে দিয়ে আবার জীবিত করবেন।
কোরআনে প্রায় হাজারখানেক আয়াত আছে, যেগুলোর অনেক ব্যাখ্যা আধুনিক বিজ্ঞান এখনো দিতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে কি সেগুলো ভুল? না, বরং সময় এলেই হয়তো সেই ব্যাখ্যাও ধরা দেবে আমাদের সামনে।
মৃত্যুর পর জীবন—এটি হয়তো এখনো বিজ্ঞানের পূর্ণভাবে প্রমাণিত নয়, কিন্তু তা যে বাস্তব ও অবশ্যম্ভাবী—এ বিশ্বাসই একজন ঈমানদারের প্রকৃত চেতনা।
আয়শা/
