| ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

সাফ শিরোপায় অবদান আছে তাদেরও

২০২২ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৫:৫৭:১৪
সাফ শিরোপায় অবদান আছে তাদেরও

এক সময় ছিলেন গুরু-শিষ্য। পরবর্তীতে দম্পতি। এখন আবার সহকর্মী। মাহবুবুর রহমান লিটু ও মাহমুদা আক্তার অনন্যা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাবিনাদের দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বে এই কোচিং স্টাফ দম্পতির রয়েছে বিশেষ অবদান, ত্যাগও কম নয়।

২০১৬ সালের পর থেকে নারী ফুটবলের আবাসিক ক্যাম্প নিয়মিত হচ্ছে। ক্যাম্প কমান্ডার হওয়ায় অনন্যাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পেই থাকতে হয়, বিশেষত রাতে। নারীদের অনুশীলনও চলে নিয়মিত। ফলে সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুও থাকেন ক্যাম্পে। দুই জনই নারী ফুটবল নিয়ে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকায় তাদের দুই সন্তান (মেয়ে) বাবা-মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত।

অনন্যা বেশ ভারাক্রান্ত কণ্ঠেই বলছিলেন, ‘সন্তানদের কাছে সময় কাটাতে পারি না। শুক্রবার দিন অনেক সময় অনুশীলন বন্ধ থাকে সকালে নারায়ণগঞ্জের বাসায় গেলেও আবার রাতে ফিরতে হয়। আমার মায়ের কাছেই তারা বড় হচ্ছে।’ মায়ের জন্যই তিনি নারী ফুটবলে কাজ করতে পারছেন বলে জানান, ‘আমার মা ও শ্বাশুড়ি দু’জনেই যথেষ্ট সাহায্য করেন। না হলে আমার নারী ফুটবলে কাজ করা সম্ভব হতো না।’

সন্তানদের কাছে সময় কাটাতে পারি না। শুক্রবার দিন অনেক সময় অনুশীলন বন্ধ থাকে সকালে নারায়ণগঞ্জের বাসায় গেলেও আবার রাতে ফিরতে হয়। আমার মায়ের কাছেই তারা বড় হচ্ছে।’ মায়ের জন্যই তিনি নারী ফুটবলে কাজ করতে পারছেন বলে জানান, ‘আমার মা ও শ্বাশুড়ি দু’জনেই যথেষ্ট সাহায্য করেন। না হলে আমার নারী ফুটবলে কাজ করা সম্ভব হতো না।মাহমুদা আক্তার অনন্যা, ক্যাম্প কমান্ডার, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলশুধু মায়ের আদর নয়, বাবার স্নেহ থেকেও তো বঞ্চিত এই দম্পতির দুই মেয়ে! ‘ঈদের সময়ও নারী ক্যাম্প চলে। অনন্যা ক্যাম্প কমান্ডার সে ক্যাম্পে থাকে, আমাকেও থাকতে হয়। বাচ্চাদের ঈদেও সময় দিতে পারি না। মাঝে মধ্যে বাসায় গেলে, দুই বাচ্চাই বলে বাবা আবার কবে আসবে কথা দাও’–বেশ আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলছিলেন লিটু।

এত ত্যাগ ও কষ্ট এখন অনেকটাই বিলীন হয়ে গেছে সাবিনাদের সাফ জয়ের আনন্দে। দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বেশ খুশি এই দম্পতি। ‘আমি নিজে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছি। আমরা যা পারিনি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পেরেছে। তাদের সেই সাফল্যে আমার ও আমার স্বামীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এটা ভাবতেই আনন্দ পাই’–বলেন অনন্যা।

ঈদের সময়ও নারী ক্যাম্প চলে। অনন্যা ক্যাম্প কমান্ডার সে ক্যাম্পে থাকে, আমাকেও থাকতে হয়। বাচ্চাদের ঈদেও সময় দিতে পারি না। মাঝে মধ্যে বাসায় গেলে, দুই বাচ্চাই বলে বাবা আবার কবে আসবে কথা দাওমাহবুবুর রহমান লিটু, সহকারী কোচ, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দললিটুর অনুভূতিও প্রায় একই, ‘আমরা দুই জনই অনেক ত্যাগ করেছি এই ক্যাম্প ও নারী ফুটবলের জন্য। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনেক শিরোপাই জিতেছি। সিনিয়র সাফ জেতায় আমাদের ত্যাগ সফল মনে হচ্ছে ও ইতিহাসের অংশ হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত।’ সিনিয়র দল সহ বয়সভিত্তিক পর্যায়ের সব দলের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে কাজ করেন তারা।

হেড কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন সাবিনাদের কাছে যেমন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় তেমনি অনন্যা ও লিটুও খুব প্রিয় তাদের কাছে। বিশেষ করে অনন্যা ফুটবলারদের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক। কারো টেকনিক্যাল, ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক যে কোনো সমস্যা সমাধানের অন্যতম মাধ্যম অনন্যা। পল ও ছোটনের কড়া অনুশীলন ও শাসনের মধ্যে খানিকটা আদর ও মজার ক্ষণ এনে দেন লিটু। ফুটবলারদের বিভিন্ন নাম লিটুরই দেয়া।

গোলাম রব্বানী ছোটন ও মাহবুবুর রহমান লিটু ফুটবলাঙ্গনে অন্যতম মানিক জোড় হিসেবেই পরিচিত। ২০০৯ সাল থেকে দু’জনের নারী কোচিংয়ে সম্পৃক্ত। লিটুর কোচিংয়ে এক সময় জাতীয় নারী দলেই খেলেছেন অনন্যা। ২০০৪ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা অনন্যা ২০১০ সালে অবসর নেন। এর পরের বছরেই লিটুর জীবনসঙ্গিনী হন।

লিটুকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে অনন্যার ক্যারিয়ার আরো শাণিত হয়েছে। ২০১০ সালে বুট তুলে রাখলেও ফুটবলের সঙ্গেই আছেন। ক্রমান্বয়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সি ও বি লাইসেন্স করেছেন। নারী দলে নারী কোচ সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা ছিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের। এই নিদের্শনার জন্য তাকে ২০১৩ সালে নারী ফুটবলে কোচিং স্টাফে যুক্ত করে। ২০১৩-১৫ পর্যন্ত অনেকটা বিনা পারিশ্রমিকেই কাজ করেছেন তিনি।

সম্পর্কটা প্রথমে গুরু-শিষ্যই ছিল। সেখান থেকে স্বামী-স্ত্রী হওয়ার গল্পটা বললেন লিটু, ‘২০১০-১১ সালের দিকে পরিবার থেকে আমার বিয়ের খোঁজ করছিল। এক সময় আমার পরিবার বলল তোর পরিচিত কোনো মেয়ে আছে কিনা। তখন আমি অনন্যার কথা বলি। এর দুই পরিবার থেকে পারিবারিকভাবেই সব কিছু হয়েছে। এর আগে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না।’

লিটুকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে অনন্যার ক্যারিয়ার আরো শাণিত হয়েছে। ২০১০ সালে বুট তুলে রাখলেও ফুটবলের সঙ্গেই আছেন। ক্রমান্বয়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সি ও বি লাইসেন্স করেছেন। নারী দলে নারী কোচ সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা ছিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের। এই নিদের্শনার জন্য তাকে ২০১৩ সালে নারী ফুটবলে কোচিং স্টাফে যুক্ত করে। ২০১৩-১৫ পর্যন্ত অনেকটা বিনা পারিশ্রমিকেই কাজ করেছেন তিনি।

২০১৬ সালে এএফসি অ-১৬ বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই নারী ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক ক্যাম্পের যাত্রা। ঠিক তখন থেকেই অনন্যার নারী ফুটবলে চাকরি স্থায়ী হয়। গত ছয় বছরের বেশি সময় নারী ফুটবলে কাজ করতে গিয়ে পরিবারকে সময় দিতে পারেননি।

এ জন্য স্বামী মাহবুবুর রহমান লিটুকেই বেশি ধন্যবাদ দিচ্ছেন, ‘আমার দৃষ্টিতে একই পেশাতেই বিয়ে করা উচিত। অন্য পেশার কাউকে বিয়ে করলে আমি ক্রীড়াঙ্গনে কাজ করা কঠিনই হতো। স্ত্রী হাফ প্যান্ট, ট্র্যাকসুট পরে হাজার লোকের সামনে দৌঁড়াবে এটা অনেক স্বামীই মেনে নিবে না। আমার আজকের অবস্থানে পেছনে লিটু স্যারের অবদান অনীস্বকার্য।’

লিটু অবশ্য অনন্যার যোগ্যতা ও নিবেদনকেই এগিয়ে রাখছেন, ‘সে নিজে জাতীয় ফুটবলার ছিল। পরবর্তীতে দু’টি কোচিং কোর্স করেছে। যোগ্যতাতেই সে সহকারী কোচ এবং ক্যাম্প কমান্ডার হয়েছে। আমি শুধু তার পাশে থেকেছি।’

১৯৮৩ সালে ঘরোয়া ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু লিটুর। অগ্রণী ব্যাংক, ওয়ারীর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ব্রাদার্স ইউনিয়নেও দুই বছর খেলেছেন। ২০০৩ সালে খেলা ছাড়ার পর ২০০৫ সাল থেকে কোচিংয়ে আসেন। আরেক সাবেক ফুটবলার সৈয়দ গোলাম জিলানীর মাধ্যমে তার কোচিংয়ে আসা। ২০০৫ থেকে এএফসি’র আওতায় বাফুফের কোচিংয়ে প্যানেলে তিনি যুক্ত রয়েছেন

পাঠকের মতামত:

ফুটবল এর সর্বশেষ খবর

ফুটবল - এর সব খবর



রে