| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯

৪২ বছর পর ওয়ার্নারের ৯৯ রানের ‘ফিফটি’

২০২২ জুন ২২ ১৮:৩০:১৬
৪২ বছর পর ওয়ার্নারের ৯৯ রানের ‘ফিফটি’

৯ বছর পেরিয়ে গেছে ওয়ানডে ক্রিকেটের বয়স তখন সাড়ে। এই সময়ের মধ্যে দুটি বিশ্বকাপও হয়ে গেছে এই সংস্করণের। শুধু তাই নয় ম্যাচ হয়ে গেছে ৯০টি। সেই সময়ে প্রথম কোনো ব্যাটসম্যানকে ৯৯ রানে থমকে যেতে দেখেছিল ওয়ানডে ক্রিকেট। তা কারো জানা ছিল না।

এতো স্ময় বলছি ডেভিড ওয়ার্নারের বিষয়। প্রায় ৪২ বছর পর ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে সেই সংখ্যা পূর্ণ হলো পঞ্চাশ। এক দিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার চলতি ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ৯৯ রানে বিদায় নেন ওয়ার্নার। আউট হয়ে কিংবা অপরাজিত থেকে, ওয়ানডেতে ৯৯ রানে আটকে যাওয়ার পঞ্চাশতম নজির এটি।

৯৯ রান মানে বিচিত্র এক অনুভূতি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তখন এত রান করার তৃপ্তির চেয়েও বড় হয়ে ওঠে স্রেফ একটি রান করতে না পারার আক্ষেপ। সেই অনুভূতির সঙ্গে ওয়ানডেতে প্রথম পরিচয় হয় ইংল্যান্ডের টেস্ট গ্রেট বয়কটের।

১৯৮০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভালে ১৫৯ বলে ৯৯ করে তিনি আউট হন আরেক গ্রেট ডেনিস লিলির বলে। ৫৫ ওভারের ম্যাচ ছিল সেটি। মাইক হেনড্রিকের বোলিং তোপে (৫/৩১) ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বয়কটরাই জিতেছিলেন ২৩ রানে।

ওই ৯৯ রানের আগে ওয়ানডেতে একটি সেঞ্চুরি অবশ্য ছিল বয়কটের। টেস্টে ২২ সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ করেন ওই একটি সেঞ্চুরি নিয়েই।

বয়কটের মাস ছয়েক পরই ৯৯ রানে আটকে যান ব্রুস এডগার। তবে নিউ জিল্যান্ডের এই বাঁহাতি একটি দিক থেকে হয়ে যান প্রথম। ওয়ানডেতে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনিই।

ভারতের বিপক্ষে অকল্যান্ডে ম্যাচটি ছিল ৪৫ ওভারের। ওপেন করতে নেমে ১৩৬ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে যান এডগার।

সর্বোচ্চ ৩ বার ৯৯ রানে থমকে গেছেন শচিন টেন্ডুলকার। সব মিলিয়ে ৫০টি ৯৯ রানের ইনিংসের মধ্যে এখন পর্যন্ত অপরাজিত ইনিংস ১৫টি।

এরপর ৯৯ রানের ইনিংস নিয়মিতই দেখা যায় ওয়ানডেতে। তবে ১০ বছরের একটি বিরতি পড়ে ১৯৮৭ থেকে। সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯ রানে আউট হন পাকিস্তানের রমিজ রাজা। এরপর ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৯ রানে আউট হন ল্যান্স ক্লুজনার। মাঝের সময়টায় আর কারও হয়নি ওই অভিজ্ঞতা।

রমিজ রাজার ওই আউট আবার ওয়ানডে ইতিহাসে আলাদা জায়গা নিয়ে আছে। ৪৪ ওভারের সেই ম্যাচে শেষ বলের আগে ৯৮ রানে অপরাজিত ছিলেন রমিজ। সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজনীয় দুই রানের চেষ্টায় শেষ বলে প্রথম রানটি নেন অনায়াসেই। দ্বিতীয়টি নেওয়ার সময় বাধে বিপত্তি। রমিজ রান পূর্ণ করার আগেই ছুটে আসে ফিল্ডারের থ্রো। রান আউট হওয়া থেকে বাঁচতে হাত দিয়ে ওই বল সরিয়ে দেন রমিজ। ব্যস, ইংলিশ ফিল্ডারেদের আবেদন আর রমিজ হয়ে গেলেন ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট!

ওয়ানডেতে ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট হওয়ার প্রথম নজির ছিল সেটি। পরে আরও ৭ জন এই আউটের শিকার হয়েছেন। তবে ৯৯ রানে এই আউট এখনও পর্যন্ত রমিজই একমাত্র।

ওয়ার্নারের আগে যেমন ৯৯ রানের একটি ক্ষেত্রে একমাত্র ছিলেন ভিভিএস লক্ষ্ণণ। ভারতের এই টেস্ট গ্রেট ওয়ানডেতে ৮৩ ইনিংস খেলে সেঞ্চুরি করেছেন ৬টি। আরও একবার খুব কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নাগপুরে ৯৯ রানে স্টাম্পড হন তিনি ক্রিস গেইলের বলে।

৯৯ রানে স্টাম্পড হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান এতদিন ছিলেন তিনিই। বুধবার সেখানে যোগ হয় ওয়ার্নারের নাম।

স্টাম্পিংয়ের চেয়েও বেশি আক্ষেপ সম্ভবত ৯৯ রানে রান আউট হয়ে। এই স্বাদ এখনও পর্যন্ত পেয়েছেন ৫ জন ব্যাটসম্যান- ২০০২ সালে গ্রায়েম স্মিথ, ২০০৩ সালে সনাৎ জয়াসুরিয়া ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ২০০৬ সালে ওয়েন মর্গ্যান ও ২০০৭ সালে শচিন টেন্ডুলকার।

বাংলাদেশ থেকে ওয়ানডেতে ৯৯ রানে আউট হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। মর্গ্যানের আক্ষেপটা অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই হওয়ার কথা। সেটি যে ছিল তার অভিষেক ম্যাচ! ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মর্গ্যান খেলেছিলেন জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডের হয়ে। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ওয়ানডেতেই অবশ্য তিনি প্রথম সেঞ্চুরি পেয়ে যান।

আইরিশদের হয়ে তার সেঞ্চুরি ওই একটিই। পরে তিনি বেছে নেন ইংল্যান্ডকে। ইংলিশদের হয়ে করেন আরও ১৩টি সেঞ্চুরি, নেতৃত্ব দেন তাদের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে।

ওয়ানডে অভিষেকে ৯৯ রানে ইনিংস আছে আর কেবল একজনেরই। বিশ্ব ক্রিকেটের তেমন পরিচিত কেউ তিনি নন। ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বপ্নীল পাতিল। ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই কিপার-ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারে ১৩ ওয়ানডে খেলেছেন। সেঞ্চুরি পাওয়া আর হয়নি তার।

৯৯ রানে রান আউট হওয়া শচিন টেন্ডুলকার আরও দুই দফায় ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ৯৯ রানে। সব মিলিয়ে তিন বার। ওয়ানডেতে অনেক ব্যাটিং রেকর্ডের জন্ম দেওয়া কিংবদন্তি ৯৯ রানের ইনিংসেও সবার ওপরে।

দুই বার ৯৯ রানে আটকে গেছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৯৯ রানে আউট হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে কেবল মুশফিকুর রহিমে। ২০১৮ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের স্মরণীয় জয়ের ম্যাচে তিনি ৯৯ রানে কটবিহাইন্ড হন শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার চলতি ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ৯৯ রানে বিদায় নেন ওয়ার্নার। আউট হয়ে কিংবা অপরাজিত থেকে, ওয়ানডেতে ৯৯ রানে আটকে যাওয়ার পঞ্চাশতম নজির এটি।

৯৯ রান মানে বিচিত্র এক অনুভূতি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তখন এত রান করার তৃপ্তির চেয়েও বড় হয়ে ওঠে স্রেফ একটি রান করতে না পারার আক্ষেপ। সেই অনুভূতির সঙ্গে ওয়ানডেতে প্রথম পরিচয় হয় ইংল্যান্ডের টেস্ট গ্রেট বয়কটের।

১৯৮০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভালে ১৫৯ বলে ৯৯ করে তিনি আউট হন আরেক গ্রেট ডেনিস লিলির বলে। ৫৫ ওভারের ম্যাচ ছিল সেটি। মাইক হেনড্রিকের বোলিং তোপে (৫/৩১) ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বয়কটরাই জিতেছিলেন ২৩ রানে।

ওই ৯৯ রানের আগে ওয়ানডেতে একটি সেঞ্চুরি অবশ্য ছিল বয়কটের। টেস্টে ২২ সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ করেন ওই একটি সেঞ্চুরি নিয়েই।

বয়কটের মাস ছয়েক পরই ৯৯ রানে আটকে যান ব্রুস এডগার। তবে নিউ জিল্যান্ডের এই বাঁহাতি একটি দিক থেকে হয়ে যান প্রথম। ওয়ানডেতে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনিই।

ভারতের বিপক্ষে অকল্যান্ডে ম্যাচটি ছিল ৪৫ ওভারের। ওপেন করতে নেমে ১৩৬ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে যান এডগার।

সর্বোচ্চ ৩ বার ৯৯ রানে থমকে গেছেন শচিন টেন্ডুলকার। সব মিলিয়ে ৫০টি ৯৯ রানের ইনিংসের মধ্যে এখন পর্যন্ত অপরাজিত ইনিংস ১৫টি।

এরপর ৯৯ রানের ইনিংস নিয়মিতই দেখা যায় ওয়ানডেতে। তবে ১০ বছরের একটি বিরতি পড়ে ১৯৮৭ থেকে। সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯ রানে আউট হন পাকিস্তানের রমিজ রাজা। এরপর ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৯ রানে আউট হন ল্যান্স ক্লুজনার। মাঝের সময়টায় আর কারও হয়নি ওই অভিজ্ঞতা।

রমিজ রাজার ওই আউট আবার ওয়ানডে ইতিহাসে আলাদা জায়গা নিয়ে আছে। ৪৪ ওভারের সেই ম্যাচে শেষ বলের আগে ৯৮ রানে অপরাজিত ছিলেন রমিজ। সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজনীয় দুই রানের চেষ্টায় শেষ বলে প্রথম রানটি নেন অনায়াসেই। দ্বিতীয়টি নেওয়ার সময় বাধে বিপত্তি। রমিজ রান পূর্ণ করার আগেই ছুটে আসে ফিল্ডারের থ্রো। রান আউট হওয়া থেকে বাঁচতে হাত দিয়ে ওই বল সরিয়ে দেন রমিজ। ব্যস, ইংলিশ ফিল্ডারেদের আবেদন আর রমিজ হয়ে গেলেন ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট!

ওয়ানডেতে ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট হওয়ার প্রথম নজির ছিল সেটি। পরে আরও ৭ জন এই আউটের শিকার হয়েছেন। তবে ৯৯ রানে এই আউট এখনও পর্যন্ত রমিজই একমাত্র।

ওয়ার্নারের আগে যেমন ৯৯ রানের একটি ক্ষেত্রে একমাত্র ছিলেন ভিভিএস লক্ষ্ণণ। ভারতের এই টেস্ট গ্রেট ওয়ানডেতে ৮৩ ইনিংস খেলে সেঞ্চুরি করেছেন ৬টি। আরও একবার খুব কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নাগপুরে ৯৯ রানে স্টাম্পড হন তিনি ক্রিস গেইলের বলে।

৯৯ রানে স্টাম্পড হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান এতদিন ছিলেন তিনিই। বুধবার সেখানে যোগ হয় ওয়ার্নারের নাম।

স্টাম্পিংয়ের চেয়েও বেশি আক্ষেপ সম্ভবত ৯৯ রানে রান আউট হয়ে। এই স্বাদ এখনও পর্যন্ত পেয়েছেন ৫ জন ব্যাটসম্যান- ২০০২ সালে গ্রায়েম স্মিথ, ২০০৩ সালে সনাৎ জয়াসুরিয়া ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ২০০৬ সালে ওয়েন মর্গ্যান ও ২০০৭ সালে শচিন টেন্ডুলকার।

বাংলাদেশ থেকে ওয়ানডেতে ৯৯ রানে আউট হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। মর্গ্যানের আক্ষেপটা অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই হওয়ার কথা। সেটি যে ছিল তার অভিষেক ম্যাচ! ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মর্গ্যান খেলেছিলেন জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডের হয়ে। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ওয়ানডেতেই অবশ্য তিনি প্রথম সেঞ্চুরি পেয়ে যান।

আইরিশদের হয়ে তার সেঞ্চুরি ওই একটিই। পরে তিনি বেছে নেন ইংল্যান্ডকে। ইংলিশদের হয়ে করেন আরও ১৩টি সেঞ্চুরি, নেতৃত্ব দেন তাদের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে।

ওয়ানডে অভিষেকে ৯৯ রানে ইনিংস আছে আর কেবল একজনেরই। বিশ্ব ক্রিকেটের তেমন পরিচিত কেউ তিনি নন। ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বপ্নীল পাতিল। ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই কিপার-ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারে ১৩ ওয়ানডে খেলেছেন। সেঞ্চুরি পাওয়া আর হয়নি তার।

৯৯ রানে রান আউট হওয়া শচিন টেন্ডুলকার আরও দুই দফায় ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ৯৯ রানে। সব মিলিয়ে তিন বার। ওয়ানডেতে অনেক ব্যাটিং রেকর্ডের জন্ম দেওয়া কিংবদন্তি ৯৯ রানের ইনিংসেও সবার ওপরে।

দুই বার ৯৯ রানে আটকে গেছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৯৯ রানে আউট হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে কেবল মুশফিকুর রহিমে। ২০১৮ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের স্মরণীয় জয়ের ম্যাচে তিনি ৯৯ রানে কটবিহাইন্ড হন শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে।

পাঠকের মতামত:

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে